১৯৯২ সালে নরওয়ে সরকারের অনুদানে রেলওয়ের ব্যবহারের জন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক একটি সমন্বিত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। কিন্তু ৫৭৫ কিলোমিটার লাইন এর বাইরে ছিল। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে রেলওয়ের ওই ৫৭৫ কিলোমিটার লাইনে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপনের কাজ শেষ করতে যাচ্ছে সরকার। ২০১৮ সালে নেওয়া রেল বিভাগের প্রকল্পের কাজ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও চলমান রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে এ প্রকল্পকে নিম্ন অগ্রাধিকার তালিকা থেকে বের করে এনে অর্থও ছাড় করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের পুরো রেললাইন অপটিক্যাল ফাইবারের আওতায় আসবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ৫৭৫ কিলোমিটার সেকেন্ডারি লাইনে অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন এবং চালুকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৬৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে এর ব্যয় কমিয়ে প্রকল্প সংশোধনী আনা হয়। এতে ব্যয় কমে দাঁড়ায় ৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকায়। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের কাজ ৭৭ ভাগ শেষ হয়েছে। অর্থ ছাড় স্বাভাবিক হলে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বলেন, সভায় বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যথাসময়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করতে গতি অব্যাহত রাখতে হবে। যেন আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পের ভৌত কাজ বাস্তবায়িত হয়। প্রয়োজনীয়তার সাপেক্ষে প্রকল্প পরিচালক প্রকল্পের অনুকূলে এডিপি বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ ছাড় করা হবে। এজন্য তাকে প্রস্তাব পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি যাতে ব্যাহত না হয় সে লক্ষ্যে বিধিবিধান পরিপালনপূর্বক যথাসময়ে মালামাল ক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মাধ্যমে পুরো রেললাইন অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপনের আওতায় আসবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে নেওয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ওই নেটওয়ার্কে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার কম্পোজিট কেব্ল (অপটিক্যাল ফাইবার এবং কপার কেব্ল) এবং ২০০ কিলোমিটার কপার কেব্ল স্থাপন করা হয়। রেলওয়ের ব্যবহারের অতিরিক্ত অপটিক্যাল ফাইবারের একটি অংশ ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে গ্রামীণফোনকে ইজারা দেওয়া হয়। পরে গ্রামীণফোন আরও ৪০৯ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করে, যা এখন তারা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু ৫৭৫ কিলোমিটার রেললাইনের জন্য পরবর্তী সময়ে এ প্রকল্প নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ নিয়ে সরকারি মোবাইল অপারেটর তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু চুক্তি না হওয়ায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় তিনি বলেন, সরকার যাতে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রেল বিভাগ জানায়, প্রকল্পটি ২০২০-২১ অর্থবছরে নিম্ন অগ্রাধিকার প্রকল্প তালিকা থেকে মধ্যম অগ্রাধিকার তালিকায় নির্ধারণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি তিনটি প্রধান প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যে যে ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে তার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্পের সমুদয় কার্য সম্পন্ন হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সমুদয় বিল পরিশোধের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।
