কমেছে সূচক ও লেনদেন

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩২ পিএম

বীমা খাতের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতার কারণে পুরো পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধনের প্রায় ২ শতাংশ হলেও দৈনিক লেনদেনের অর্ধেকই আসছে বীমা খাত থেকে। খাতটির ওপর বিনিয়োগকারীদের অতিমাত্রায় ঝোঁক অন্যান্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে গতকাল ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দরপতন হয়েছে। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ৫২ শতাংশের বেশি সিকিউরিটিজের দর কমেছে। তাতে উভয় বাজারের প্রধান মূল্য সূচকগুলো পয়েন্ট হারিয়েছে। এ ছাড়া লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে।

অস্থিরতা তৈরি হলেও বীমা খাতের লেনদেন কমেনি। গতকালও ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪৬ শতাংশ এসেছে বীমা খাত থেকে। তবে টানা দরবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল খাতটিতে কিছুটা সংশোধন দেখা গেছে। গতকাল সাধারণ বীমা খাতের বাজার মূলধন ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমলেও জীবন বীমা খাতের দর ১ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে গতকালই জ¦ালানি খাতে যুক্ত হয়েছে অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন নামক আরও এক কোম্পানি। সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারে লেনদেনের প্রথম দিনে শেয়ারটির দর ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৫ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। আইপিওতে কোম্পানিটির অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করেছিল। লেনদেনের প্রথম দিনে ডিএসইতে এই কোম্পানির মাত্র ২২ হাজার ৬৩৭টি এবং সিএসইতে মাত্র ১০টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আলোচিত সাধারণ বীমা খাতসহ অন্যান্য খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের লেনদেন হওয়া ২২ কোম্পানির মধ্যে ১২টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯টির। অধিকাংশ শেয়ার দর হারালেও আলোচিত মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী ধারা। গতকাল ডিএসইতে এ খাতের ৩৭ ফান্ডের মধ্যে ৩০টিরই বাজারদর বেড়েছে। বাকি সাত ফান্ডের মধ্যে তিনটির দর কমার পরও সার্বিকভাবে এ খাতের বাজারদর বেড়েছে সোয়া ২ শতাংশ।

খাতওয়ারি হিসেবে গড়ে সোয়া ৩ শতাংশ হারে দর হারিয়েছে পাট খাত। খাতটির তিন শেয়ারের সবগুলো দর কমেছে গড়ে সোয়া ৩ শতাংশ হারে। বড় খাতগুলোর মধ্যে বস্ত্র খাতের দর কমেছে সবচেয়ে বেশি। এ খাতের ৫৬ কোম্পানির মধ্যে ৩৬টির দর কমেছে। বাকি ২০ কোম্পানির মধ্যে ৬টির বাজারদর বাড়লেও এ খাতের সব শেয়ারের গড় দরপতন হয়েছে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। বিবিধ খাতের ১৩ কোম্পানির মধ্যে ৯টির দর কমায় গড়ে এ খাত দর হারিয়েছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর বীমা খাতের ৪৮ কোম্পানির মধ্যে ২৯টির দর কমেছে, বেড়েছে ১৮টির।

সার্বিক বিচারে ডিএসইতে ১১১ শেয়ার ও ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৮৬টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৬০টির দর। সিএসইতে ৮৪টি শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে, কমেছে ১৪১টির। বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ পয়েন্ট হারিয়ে ৪৮৯২ পয়েন্টে নেমেছে। লেনদেন হয়েছে ৮৮৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার, যা গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় ১৪৩ কোটি টাকা কম।

লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমা সত্ত্বেও বীমা খাতই ছিল লেনদেনের শীর্ষে। গতকাল এ খাতের প্রায় ৪০৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোট লেনদেনের সোয়া ৪৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে, যা ৯ শতাংশের সামান্য বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত