বিতর্কের রানী কঙ্গনা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১:১২ পিএম

বিগত কয়েক মাসে বলিউড, বিতর্ক, টুইটার বা রাজনীতি সব অঙ্গন মাতিয়ে রেখেছেন ‘বলিউড কুইন’খ্যাত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানৌত। কিছুদিন আগেই কৃষি বিলের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর দায়ে রমেশ নায়েক নামে এক আইনজীবী কঙ্গনার বিরুদ্ধে মামলা করেন। বিজেপির পক্ষ নিয়ে কঙ্গনা টুইটে লিখেছিলেন ‘যারা সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন) গুজব ছড়িয়েছিল, তারাই এখন কৃষি বিল নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলছে। এ জন্য দেশে দাঙ্গা হচ্ছে। এই লোকেরা সন্ত্রাসী। আমি কী বলছি, আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।’

এটাই সাম্প্রতিক সময়ে কঙ্গনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা। আরও একটি মামলা করা হয়েছে কঙ্গনার বিরুদ্ধে। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুরহস্যের তদন্ত চলার সময়ে কটু ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে পরিস্থিতি জটিল করে তোলায় এই মামলা করেছে মুম্বাই পুলিশ। আর এ দুই মামলার আগেই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে মুম্বাই করপোরেশনের কর্মীরা কঙ্গনার বাড়ি ও অফিসের খানিকটা ভেঙে ফেলেছে।

এসব নিয়ে বেজায় চটেছেন কঙ্গনা। ক্ষেপে গিয়ে টুইটারে লিখেছেন, ‘সবাই আমাকে জেলে পাঠাতে চায়। আমিও জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। সবাই আমার পেছনে লেগেছে। এর মানে হলো, আমি ঠিক রাস্তাতেই আছি। ওরা আমাকে জেলে পাঠাতে চায়, এটা আমাকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। জেলে গেলে আমার জীবন আরও অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে।’

এদিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে বিতর্ক থামছেই না কঙ্গনার। গতকাল দশমী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধব ঠাকরে কৌশলে খোঁচা মেরেছেন কঙ্গনাকে। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছেন, ‘যিনি বিহারের ছেলের পক্ষে ন্যায়বিচারের জন্য কাঁদছেন তিনিই মহারাষ্ট্রের ছেলে (আদিত্য ঠাকরে) এবং মুম্বাই পুলিশের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে নেমেছেন।’ কঙ্গনার আরও দুটি উক্তি ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ একজন মুম্বাইকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর বলেছিলেন। যেখানে কাজ করেন, সে জায়গারই বদনাম করেন। সেই ব্যক্তি আরও বলেছেন, পুরো মুম্বাই শহর নাকি মাদকের স্বর্গ। এই শহরের সবাই নাকি মাদকাসক্ত। মুম্বাই শহরের সম্মানহানি করা হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কঙ্গনার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী সরব থাকলেও এই তারকার সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় সম্প্রতি ৯ সাংবাদিককে নিষিদ্ধ করেছে ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো। কঙ্গনার সঙ্গে একই ফ্লাইটে ছিলেন অভিযুক্ত সাংবাদিকরা। খবরে বলা হয়, নিয়ম-বিরুদ্ধ কিছু আচরণের জন্য ৯ সংবাদকর্মীকে ১৫ দিনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইন্ডিগো। ফলে ১৫ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ওই ৯ সংবাদকর্মী ইন্ডিগোর বিমানে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত