করোনার মধ্যেও রাজস্ব আদায়ে ভালো সাফল্য দেখিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউজ। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে এই অফিস রাজস্ব আদায় করেছে ১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এই অফিসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ২৪ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
ঢাকা কাস্টম হাউজ সূত্র জানিয়েছে, করোনার এই সময়ে এনবিআরের মধ্যে একমাত্র এ অফিসটি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ^ব্যাপী করোনার কারণে যাত্রী ও পণ্য আসা-যাওয়া কমে যাওয়া সত্ত্বেও ফাঁকি ধরার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিটে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে এই বন্দর দিয়ে ফাঁকির প্রবণতা কমে গেছে।
ঢাকা কাস্টম হাউজের রাজস্ব আদায়ের মূল খাত আমদানিকৃত মোবাইল ফোন। এ ছাড়া সফটওয়্যার ও এর যন্ত্রাংশ, ওষুধের কাঁচামাল, বাণিজ্যিক পণ্য, তৈরি পোশাক পণ্য ও ফলমূল জাতীয় পণ্য থেকেই মূলত রাজস্ব আদায় বেশি হয়। তবে মোবাইল ফোনের সংযোজন শিল্পকে (অ্যাসেম্বলিং) আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার কারণে গত কয়েক মাসে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
তা সত্ত্বেও অন্যান্য খাতের পণ্য থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ায় সার্বিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে ঢাকা কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শুল্কায়নের ক্ষেত্রে পণ্য পরীক্ষার গুণগত মান বাড়ায় ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণে ফাঁকি কমেছে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বাড়ছে।
