ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফারজানা ছবি বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করতে ভালোবাসেন। এবার তিনি নায়িকার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন বিন মোস্তফা
মায়ের ভূমিকায়...
আমি আসলে কোনো ট্যাবুতে বিশ্বাস করি না। আগে অনেক নায়িকা ভাবতেন মেকআপ ছাড়া গ্ল্যামারহীন চরিত্রে অভিনয় করলে ফ্যান ফলোয়ার কমে যাবে। কিন্তু আমি অল্প বয়সেই সে ধরনের চরিত্র করেছি। তাতে কোনো অসুবিধা তো হয়ইনি, বরং গ্ল্যামারহীন চরিত্রগুলো আমার টার্নিং পয়েন্ট। আমাকে ভালো অভিনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ওই নাটকগুলোই। তাই নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে আটকে থাকতে চাইনি। কিছুদিন আগে ‘একটি শিশু এবং অগণিত পিতা’ নাটকে মানসিক ভারসাম্যহীন শেফালি চরিত্রে অভিনয় করেছি। সদ্য একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করলাম। এতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার স্বামীর চরিত্রে আছেন শাহেদ শরীফ খান। মূলত এ দুটি চরিত্রই চলচ্চিত্রটির মুখ্য চরিত্র।
সামাজিক ইস্যু...
এখন সমাজে নারীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বহুল চর্চিত। তেমনি একটি গল্প দেখানো হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পিতৃসত্তা’য়। আমাদের একটা মেয়ে হয়। কিন্তু জন্মের পর থেকে আমরা আর স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারি না। সমাজ আমাদের মেয়েটাকে প্রতিটি পর্যায়ে হেনস্তা করে। একটা পর্যায়ে আমার স্বামী পুরুষ সমাজের প্রতিনিধি হয়েও পুরুষদের ভয় পেতে থাকে। নারীদের ধর্ষণ, স্বাবলম্বী হওয়ার পথে বাধা, শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতন সবই দেখানো হয়েছে। তবে এ চলচ্চিত্রের বিশেষত্ব হলো, এটি একটি নির্বাক চলচ্চিত্র। অভিনয়শিল্পীদের কোনো সংলাপ নেই। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য নির্মিত তাই এতে ইংরেজিসহ নানা ভাষায় ভয়েস ওভার করা হবে। কাজটি করে খুব তৃপ্তি পেয়েছি। নাদিয়া আফরিন রেখার রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে শর্টফিল্মটি।
মালা ভাবি...
টেলিভিশনে কাজের এক ধরনের সীমারেখা থাকে। নির্মাতা বা শিল্পীরা চাইলেই সব ধরনের চরিত্র বা গল্প বলতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ভালো। এখন নানা ধরনের শর্টফিল্ম হচ্ছে। কিছুদিন আগে আমি ‘মালা ভাবি’ নামে একটি শর্টফিল্ম করেছি। মিজানুর রহমান লাবু পরিচালিত এ কাজটি এরই মধ্যে দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার পেয়েছে।
মজার চরিত্র...
এখন আরটিভিতে প্রচার হচ্ছে আমার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক টিপু সুলতান। এতে আমি খুব মজার একটি চরিত্র করছি। মেয়েটি গ্রামের, বয়স ৩০-এর ওপরে। কিন্তু কিছুতেই বিয়ে হয় না। তার জীবনে একটাই স্বপ্ন, একটাই আশা তা হলো একটা বিয়ে। একপর্যায়ে মেয়েটি রাস্তায় নেমে যায় বরের সন্ধানে। যাকে পাবে তাকেই বিয়ে করবে। কিন্তু তাতেও কোনো কিছু হয় না। সে এক ওঝার সন্ধান পায়। সেখানে গিয়ে বলে, আপনার দখলে কোনো পুরুষ ভূত থাকলে তার সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দেন! চরিত্রটি দর্শক খুব পছন্দ করছে। আমার সংলাপ শুনে অনেকে হাসিতে গড়াগড়ি দেয়। আমিও খুব উপভোগ করছি চরিত্র করতে। এমনিতে কমেডি অভিনয় খুব চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু সংলাপ শক্তিশালী হলে কমেডি চরিত্র দিয়ে অভিনয়শিল্পী সহজেই দর্শকের মন জয় করতে পারেন।
