হাজী সেলিমের প্রটোকল অফিসার দীপু রিমান্ডে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৭:১৫ এএম

নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক ওরফে দীপুকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে মঙ্গলবার ভোররাতে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির রমনা বিভাগের উপকমিশনার এইচএম আজিমুল হক।

এদিকে গত সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হাজী সেলিমের ছোট ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর (সাময়িক বরখাস্ত) মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ও দেহরক্ষী জাহিদ হোসেনকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারা কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন আসামি হিসেবে তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।  পুরান ঢাকার ২৬ দেবীদাস ঘাট লেনে হাজী সেলিমের বাবার বাসা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফানের কার্যালয়ে সোমবারের অভিযানে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় দুটি মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে র‌্যাব। এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ গতকাল রাত ৮টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে মামলা রেকর্ড হয়ে যাবে।’

গত রবিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের পাশে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয় হাজী সেলিমের গাড়ি। ল্যান্ডক্রুজার গাড়িটিতে ‘জাতীয় সংসদের’ স্টিকার যুক্ত ছিল। নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খান ধাক্কা দেওয়ার প্রতিবাদ করে কারণ জানতে চাইলে তাকে মারধর করেন ইরফান, দীপু, জাহিদ ও মিজানসহ কয়েকজন। ওই ঘটনায় সোমবার সকালে হত্যাচেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ। মামলায় ইরফানসহ চারজনের উল্লেখ করা হয়। এরপর হাজী সেলিমের বাবার বাসা ও কাউন্সিলর ইরফানের কার্যালয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। র‌্যাব জানিয়েছে, অভিযানে অনুমোদনহীন ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, একটি অবৈধ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হাতকড়া, একটি ড্রোন, সাত বোতল বিদেশি মদ ও কিছু বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দেহরক্ষীর বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৪০০ পিস ইয়াবা। অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি ও হাতকড়া রাখার দুটি অভিযোগে ইরফান ও জাহিদকে ছয় মাস করে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় গতকাল কাউন্সিলর ইরফানকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

ডিবির রমনা বিভাগের উপকমিশনার এইচএম আজিমুল হক গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ধানমন্ডি থানায় মামলা হওয়ার পর হাজী সেলিমের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক ওরফে দীপু টাঙ্গাইলে আত্মগোপন করেন। ডিবি প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসে।’

পুলিশের ধানমন্ডি জোনের উপকমশিনার আবদুল্লাহিল কাফি দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, দীপুকে ধানমন্ডি থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শুনানি শেষে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

কোয়ারেন্টাইনে ইরফান : ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ মামুন জানান, ইরফান ও জাহিদকে সোমবার রাত ১২টার পর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসে র‌্যাবের একটি দল। তাদের কারাগারের সাধারণ সেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

ব্রিফকেস ছিল খালি : হাজী সেলিমের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ব্রিফকেসে কী ছিল, এ নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, ব্রিফকেসে কী ছিল অভিযান শেষে সেটা পরিষ্কার করেনি র‌্যাব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্রিফকেসটি খালি ছিল। এর মধ্যে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।’

ইরফানের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন : ইরফানের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। গতকাল ধানমণ্ডি থানার পরিদর্শক আশফাক রাজীব হাসান ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে এ আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড ও আদেশের বিষয়ে শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ঠিক করেছে। একই সঙ্গে হাজী সেলিমের দেহরক্ষী জাহিদেরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলী জানিয়েছেন। এটিরও শুনানির দিন আজ নির্ধারণ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত