আদালতের পর্যবেক্ষণ

কিশোর অপরাধ দমনে সাজা বাড়ানো উচিত

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৭:২৩ এএম

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া ওই রায়ে বিচারক অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ছয়জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছর করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। দেশের বিদ্যমান শিশু অপরাধ আইনে এটিই সর্বোচ্চ শাস্তি বলে জানা গেছে। তবে দেশ থেকে কিশোর অপরাধ নির্মূলে এ সাজার মেয়াদ আরও বাড়ানো উচিত বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন বরগুনার জেলা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘আজ সারা দেশে কিশোর অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। এ কিশোর অপরাধীদের যারা গডফাদার, তারা কিশোরদের সাজা কম হওয়ায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে কিশোরদের ব্যবহার করছে। তাই কিশোর অপরাধ নির্মূলে কিশোর অপরাধীদের সাজা বৃদ্ধি করা উচিত।’

বিচারকের দেওয়া পর্যবেক্ষণের ভাষ্য নিশ্চিত করে রিফাত হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘রায়ের পর্যবেক্ষণে শুধু কিশোর অপরাধীরা নয়, নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়েও মন্তব্য করেছেন আদালত।’

তিনি আরও বলেন, ‘রায়ের পর্যবেক্ষণে কিশোর অপরাধ দমনে আদালত যে মন্তব্য করেছেন তার সঙ্গে আমিও একমত পোষণ করছি। কারণ কিশোর অপরাধীদের শাস্তি বৃদ্ধি করা না হলে এদের অপরাধের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা ও মৌলিক শিক্ষার অভাবে এ কিশোররা বিপদগামী হয়েছে। তাই এ আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে দেশে কিশোর অপরাধের সংখ্যা এবং কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত