ছুটি না কাটিয়ে অনুশীলনে তামিম

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০৬ এএম

মুশফিকুর রহিম কিছুদিন ব্যস্ত থাকবেন পারিবারিক কাজে। এক সপ্তাহের বেশি সময় তাকে মাঠে দেখা যাওয়ার কথা না। সবকিছু ঠিক থাকলে তামিম ইকবালও হয়তো ছুটিটাকে উপভোগ করতে চাইতেন মাঠের বাইরে। কিন্তু দেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তা পারছেন কই? গতকাল দুপুরেই তো মিরপুরের নেটে ঢুকে পড়তে হলো তাকে।

তামিম পরিশ্রমী তা নিয়ে কারও সংশয় নেই। মুশফিক তার অন্যতম সেরা বন্ধু। কিন্তু পরিশ্রমের জায়গাটাতে দুজনের মধ্যে বিরাট একটা পার্থক্য আছে। মুশফিক মাঠ ছাড়া থাকতে পারেন না। করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি সময়টা তার জন্য ছিল দুঃসহ। একটা সময়ে নিজ উদ্যোগে ফর্টিসের মাঠে নেমে পড়েছিলেন। ওসব দেখেশুনেই না অল্প সময়ের মধ্যে লকডাউনে থাকা মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামকেও একক অনুশীলনের জন্য তৈরি করে ফেলতে হলো বিসিবিকে। প্র্যাকটিস কার্যক্রমের ওখানেই ছিল সূত্রপাত। সেটা ধরে এই দিনদুয়েক আগে সাফল্যের সঙ্গে বায়ো-বাবলের মধ্যে খেলোয়াড়দের রেখে একটা টুর্নামেন্ট শেষ করে ফেলল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এই টুর্নামেন্টই আসলে তামিম এবং আরও কারও কারও মধ্যে ভিন্ন ভাবনা আনতে বাধ্য করেছে। আয়নায় নিজেদের দেখতে বাধ্য হচ্ছেন। তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও নাজমুল একাদশের মধ্যে প্রেসিডেন্টস কাপ শেষ হয়েছে রবিবার। পরবর্তী টুর্নামেন্টটা (টি-২০) যেহেতু ১৫ নভেম্বর শুরু করার কথা ভাবা হচ্ছে তাই বিসিবির পক্ষ থেকে এখন ক্রিকেটারদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের ছুটি। যেটা কেউ উপভোগ করতে না চাইলে মিরপুরে একক অনুশীলন করতে পারেন।

মিরপুরে গতকালই শুরু হয়েছে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স দলের অনুশীলন। করোনা মহামারী আসার পর এই প্রথম এইচপি মাঠে। তাদের অনুশীলনের ফাঁকে অন্যরা সুযোগ পাবেন। কিন্তু জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রাধান্য তো সবসময় বেশি। তার ওপর এক সংস্করণের অধিনায়ক আর দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের জন্য তো মাঠ খোলা রাখতেই হয়।

ওয়ানডে আসরটিতে তামিম একাদশের সুযোগ হয়েছে ৪টি করে ম্যাচ খেলার। দেশের ওয়ানডে অধিনায়কের দলে তারকার মেলা থাকলেও সেটি তিন দলের আসরের ফাইনালেই খেলতে ব্যর্থ। ওটা ভালো লাগার কথা না তামিমের। আরও ভালো লাগার কথা না নিজের ব্যর্থতা। অথচ করোনায় খেলা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে কী না দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে পরপর দুই খেলায় সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। একটি ছিল অনেক রেকর্ড ভাঙা।

প্রেসিডেন্টস কাপের চার ম্যাচে তামিমের স্কোর- ২, ৩৩, ৯ ও ৫৭। ৬৬.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ১০১ রান, যেখানে ১২টি চার ও ১টি ছক্কা। নামি ব্যাটসম্যানদের অনেকেই টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হলেও তামিমের কি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার সেরা ১০-এর শেষে থাকার কথা? এই আসরে বন্ধু মুশফিকেরও একটা সেঞ্চুরি ও ২টা ফিফটি। ৫ ম্যাচে ২১৯ রান নিয়ে এক নম্বর। তামিম সেখানে ১০ নম্বর!

তামিম একা নন। মাঝে করোনায় সবার নিয়মিত অনুশীলন ও রুটিন ভেঙে পড়েছে। তবে এর মধ্যেও তো কেউ কেউ প্রচণ্ড পরিশ্রমে নিজেদের আরও ফিট করে তুলেছেন। মাহমুদউল্লাহ ৫ কেজির বেশি ওজন ঝরিয়েছেন। তাসকিন আহমেদ আগ্রাসী সেই এক্সপ্রেস চেহারা পেতে শুরু করেছেন। উদাহরণ আরও মিলবে।

কাল প্রায় ঘণ্টাখানেক মাঠে কাটানো তামিমকে তাইজুল-মিঠুন, থ্রোয়াররা বল করেছেন। কিন্তু ২১ অক্টোবর শেষ মাঠে থাকা তামিমকে ছুটি না কাটিয়েই ২৭ তারিখে মাঠে ফিরতে দেখতে একটা ব্যাপার স্পষ্ট। নিউ-নরমাল লাইফে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ আসলে তামিমদের মতো কাউকে কাউকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে ছেড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত