র‌্যাবের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চান মার্কিন সিনেটররা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪০ এএম

বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম আর নির্যাতনের অভিযোগে র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির ১০ সদস্য। মার্কিন সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর বব মেনেনডেজ ও রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর টড ইয়াং এবং তাদের আট সিনেট সহকর্মী গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনুশেনকে অনুরোধ করেছেন। গত মঙ্গলবার সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির ওয়েবসাইট এ তথ্য প্রকাশ হয়েছে।

বব মেনেনডেজ ও টড ইয়াং ছাড়াও ওই চিঠিতে সই করেছেন রিপাবলিকান পার্টির সদস্য করি গার্ডনার, মার্কো রুবিও এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির বেন কার্ডিন, জিন শাহিন, ক্রিস মার্ফি, ক্রিস কোনস, জেফ মার্কলে ও করি বুকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনুশেনকে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, ২০১৫ সালের পর থেকে চারশোর বেশি ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার’ অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশের এই এলিট বাহিনীর বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগে শীর্ষস্থানীয় র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্লোবাল ম্যাগনিৎস্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যাক্ট এবং ফারদার কনসোলিডেটেড অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ২০২০ এর ৭০৩১ (সি) ধারায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনের ওই দুটি ধারায় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করার পর র‌্যাবের ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বেড়ে যায়। বিশেষ রেপোর্টিয়ারসহ জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিচারবহির্ভূত কিংবা নিবর্তনমূলক হত্যা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে চিঠিতে মন্তব্য করা হয়েছে ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান’ ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার ইচ্ছাকৃতনীতি বলে প্রতীয়মান’। তাই তারা এটি বন্ধ করে আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বলেছেন বাংলাদেশ সরকারকে। কিন্তু সরকার এসব অপকর্ম বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ ছাড়াও ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ বিভিন্ন ঘটনায় র‌্যাবের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ জানিয়েছেন সিনেটররা। চিঠিতে তারা লিখেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ছাড়াও র‌্যাবের হাতে গুম এবং ব্যাপক মাত্রায় নির্যাতনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেছেন জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার গ্রুপগুলো। এর মধ্যে ২০১৯ সালে তিন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের একটি অভিযোগও রয়েছে, যাদের নিয়োগকর্তার সঙ্গে একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বিরোধ ছিল। এসব ঘটনা বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনেরই প্রমাণ দেয়, যার জন্য র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন কিংবা এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কখনো শাস্তি পেতে হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত