মোরগের পায়ে অস্ত্র আঘাতে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪২ এএম

ফিলিপাইনের নর্দার্ন সামার প্রদেশে অবৈধ মোরগ লড়াই বন্ধে অভিযান পরিচালনার সময় মোরগের পায়ে বাঁধা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পুলিশের এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ফিলিপাইনে ব্যাপক জনপ্রিয় মোরগ লড়াই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নর্দার্ন সামারে মোরগ লড়াইয়ের আয়োজন করা হলে পুলিশের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ক্রিস্টিন বোলোক সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে অভিযান পরিচালনার সময় তার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে কোনো পক্ষই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না।

নর্দার্ন সামার প্রদেশের পুলিশের প্রধান কর্নেল আর্নেল অপুদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, দুর্ঘটনাটি দুর্ভাগ্যবশত ঘটেছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক। আমি এর ব্যাখ্যা করতে পারি না। এটি প্রথমে যখন আমি জানতে পারি; তখন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ২৫ বছরের চাকরিকালীন মোরগ লড়াইয়ের কারণে প্রথমবারের মতো একজনকে হারালাম।

দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা দ্য ফিলিপাইন নিউজ এজেন্সি (পিএনএ) বলছে, পুলিশের প্রাদেশিক এই প্রধান নিহত পুলিশ সদস্যের পরিবারের প্রতি ‘গভীর সহানুভূতি’ জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দুটি দলের অন্তত তিনজন সদস্য ও সাতটি মোরগ ও ৫৫০ ফিলিপিনো পেসো জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। এ ছাড়া আরও তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ।

ফিলিপাইনে জনপ্রিয় এই লড়াইয়ে মোরগের পায়ে স্টিলের ধারালো এবং তীক্ষè ব্লেড বেঁধে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনাবশত লড়াইরত একটি মোরগ ক্রিস্টিনের বাম ঊরু ও ধমনীতে আঘাত করে। পরে সেখান থেকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মহামারীর আগে ফিলিপাইনে শুধু প্রতি রবিবার এবং সরকারি ছুটির দিনের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেগুলো তিন দিন ধরে চলে; সেখানে এই মোরগ লড়াইয়ের অনুমতি ছিল। কিন্তু সেই অনুমতির তোয়াক্কা না করেই একদল ফিলিপিনো মোরগ লড়াইয়ের আয়োজন করেছিল। দেশটিতে এই লড়াই খুব জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ এর সঙ্গে জড়িত বিপুল অঙ্কের অর্থ। এই লড়াইয়ের সঙ্গে দেশটির অপরাধ জগতের অনেকেই জড়িত। প্রতি বছর এই খেলা নিয়ে একাধিক মানুষ মারা যায় প্রতিপক্ষের হামলায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত