স্বামীকে সন্দেহ দায় এড়াতে পারে না পুলিশ

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৭ এএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতনের ঘটনায় ওই নারীর স্বামী জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা আইনজীবীদের একজন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন গত ৫ অক্টোবর হাইকোর্টের নজরে আনা হলে আদালত বেশকিছু নির্দেশনা দেয়। এর মধ্যে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও ছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামীর গতিবিধি, তার নিশ্চুপ থাকা এবং পারিপাশির্^ক অবস্থা বিবেচনা করে এ ঘটনায় তিনি জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।’ 

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘১০-১২ বছর ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার স্বামীর কোনো যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু ঘটনার কিছুদিন আগে যোগাযোগ শুরু করে। ঘটনার পর স্বামীর নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, ওই দেলোয়ার বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের অবহেলা ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় দেলোয়ার বাহিনীর মতো এসব বাহিনী গড়ে ওঠে।’ এদিকে হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে ওই ঘটনার ভিডিওচিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে  বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলি যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা)। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ পেনড্রাইভ ও সিডিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানান বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। 

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ওই গৃহবধূর (৩৫) বসতঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করে স্থানীয় বাদল ও তার সংঘবদ্ধ বখাটের দল। ওই সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে। ঘটনার ৩২ দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ওই ভিডিও প্রকাশ পেলে সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনার পর স্থানীয় দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও তাদের সহযোগীরা নির্যাতিতা গৃহবধূর পরিবারকে কিছুদিন অবরুদ্ধ করে পুরো পরিবারকে বসতবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করলেও এক মাস স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসনের অগোচরেই ছিল এ ঘটনা।  ইতিমধ্যে গৃহবধূর করা মামলায় দেলোয়ারসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে  পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত