রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ট্রাম্পকে যেভাবে মোকাবিলা করছেন বাইডেন

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ১২:০২ এএম

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ক্যারিশম্যাটিক নেতা না হওয়া সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বড় সমালোচক জো বাইডেন এগিয়ে আছেন অধিকাংশ জরিপে।ডেমেক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনের প্রচারণার নানা দিক নিয়ে লিখেছেন জুবায়ের আহাম্মেদ

ট্রাম্প ও বাইডেনের বাগ্যুদ্ধ

মার্কিন নির্বাচনের একটি বড় অনুষঙ্গ টিভি বিতর্ক। বিতর্কে ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকান প্রার্থী সরাসরি মুখোমুখি হন। কথার ফুলঝুরি এখানে বড় একটি বিষয়। কথার জাদুতেই এর আগে মার্কিনিদের মুগ্ধ করেছিলেন বারাক ওবামা। ফলাফল ছিল হোয়াইট হাউজে একজন কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের অভিষেক। মিট রমনি কিংবা জন ম্যাককেইন দুজনকেই ওবামা বলতে গেলে অনেকটা হেসেখেলেই পরাজিত করেছেন। কথার জাদুতে এবার অবশ্য সে অর্থে কেউই খুব বেশি মুগ্ধ করতে পারেননি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেই হয়তো এক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে আছেন জো বাইডেন। প্রতিপক্ষের ভুল অনেক ক্ষেত্রে বড় অস্ত্র। সেটাই সম্ভবত এবার সত্যে পরিণত করতে যাচ্ছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

কথার আগুনে রীতিমতো একে অন্যকে পুড়িয়েছেন জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুজনের টিভি বিতর্ক কেবল রাজনৈতিকভাবে তাদের দূরত্বই প্রকাশ করেনি, সেই সঙ্গে পরিচয় দিয়েছে তাদের ব্যক্তিগত সত্তারও। ট্রাম্পের মারমুখী আর আক্রমণাত্মক জবাবের পরিবর্তে বাইডেন বরাবরই সমীহ করেছেন তাকে। তবে বেশ কয়েকবার নিজেকে সংযত রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টও। তবে মূল নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নিজেকে মেলে ধরছেন জো বাইডেন। ডেলওয়্যার রাজ্যের সবচেয়ে বেশিদিন সিনেটর হয়েছিলেন বাইডেন। এছাড়াও ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন একজন আইনজীবী। নিজের রাজনৈতিক জ্ঞান ও বাচনভঙ্গির সবটাই বেশ দারুণভাবে প্রকাশ পাচ্ছে শেষ সময়ে এসে। আর তাতেই কিছুটা বিপাকে পড়তে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাক-মাধুর্যতা কিছুটা কম থাকায় বরাবরই সমালোচিত ছিলেন ট্রাম্প। তার ফল আসতে পারে এবারের নির্বাচনে।

‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে প্রেসিডেন্ট’

শৈশবে জো বাইডেনের কথা কিছুটা জড়িয়ে আসত। কিন্তু বাইডেনই এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর এক উক্তি করেছেন। মার্কিন ইতিহাসে এবার কোনো প্রেসিডেন্ট তার প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে ভীষণ কড়া সমালোচনা শুনেছেন। প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল টেলিভিশন বিতর্ক চলাকালে ট্রাম্পকে সরাসরি মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কর ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলার সময় বিতর্ক একপর্যায়ে চরমে ওঠে। বিশেষ করে বাইডেনের বক্তব্যের মাঝে বারবার ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ করার কারণে সঞ্চালক ক্রিস ওয়ালেস থেকে শুরু করে জো বাইডেনসহ প্রায় সবাই বেশ বিরক্ত ছিলেন। ‘আপনি কি একটু চুপ করবেন?’ কিংবা ‘আপনিই মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে প্রেসিডেন্ট’ এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক ধাঁচের বক্তব্য বেশ বড় সাড়া ফেলেছে দুপক্ষের মধ্যেই। রিপাবলিকানদের চোখে যে বক্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুস্পষ্ট অপমান, ঠিক একই বক্তব্যকে ডেমোক্র্যাটরা দেখছে নির্ভেজাল সত্য হিসেবে। সেই সঙ্গে একে বাইডেনের সাহসিকতার নমুনা হিসেবেও প্রচার চালাচ্ছেন অনেক মার্কিনি। ওবামা প্রশাসনের রেখে যাওয়া স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ট্রাম্প বরাবরই বিরূপ মন্তব্য করে এলেও নতুন করে কোনো নীতি আজও স্পষ্ট করতে পারেননি ট্রাম্প। প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে উঠে এসেছিল সেই কথাও। বাইডেন, বার্নি স্যান্ডার্সের নীতির অনুসারী মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘সবাই জানে তিনি একজন মিথ্যেবাদী। আপনি ভুল রাতের ভুল সময়ে একজন ভুল মানুষকে এখানে নিয়ে এসেছেন।’ জবাবে অবশ্য ছেড়ে কথা বলেননি জো বাইডেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই বাইডেন জবাব দিয়েছিলেন, ‘স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তার কোনো পরিকল্পনাই নেই। মূল ব্যাপার হলো, তিনি যে কী নিয়ে কথা বলছেন সেটা নিয়েই তার কোনো ধারণা নেই।’

করোনা প্রসঙ্গ

পুরো ক্যাম্পেইন জুড়েই কভিড-১৯ বড় একটি প্রভাবক ছিল। ট্রাম্প নিজেই এর মাঝে কভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। যার কারণে বাদ গিয়েছে দ্বিতীয় টেলিভিশন বিতর্ক। আর কভিড ইস্যুতে শুরু থেকে মোটামুটি নিন্দিত এক পরিস্থিতিতে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ অনেকবারই বাইডেনের মাস্ক পরা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এসবের কিছুই অবশ্য সাধারণ মার্কিনিদের স্বস্তি দেয়নি। বরং এখনো প্রচুর পরিমাণে নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে দেশটিতে। দুই টিভি বিতর্কেই এ ব্যাপারে ট্রাম্পকে একহাত নেন জো বাইডেন। ‘আপনার উচিত নিজের বাংকার আর গলফ কোর্সের স্যান্ড ট্র্যাপ থেকে বেরিয়ে এসে ওভাল অফিসে যাওয়া। ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকান সবাইকে জড়ো করুন। আর জীবন বাঁচানোর জন্য কী করা দরকার সেটা খুঁজে বের করা দরকার আপনার।’

ট্রাম্প অবশ্য নিজের সাফাই গাইতে ভুল করেননি। তিনি সবসময়ই দাবি করে এসেছিলেন তার প্রশাসন দারুণ কাজ করেছে পুরোটা সময় জুড়েই। ব্যক্তিজীবনে ব্যবসায়ী ট্রাম্প তৃতীয় বিতর্কে এসে জবাব দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীর মতো করেই। ট্রাম্পের দাবি ছিল, চাইলেই দেশ বন্ধ করে ঘরে বসে থাকা সম্ভব না। তাকে পুরো দেশ এবং এর অর্থনীতি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক শহরের কঠোর লকডাউনের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, নিউ ইয়র্ক একটি ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। সেখানে রেস্টুরেন্টগুলো ব্যাপক সংকটে আছে। আর অকপট জবাব দিয়ে বাইডেন বলেন ‘আপনি দেশ নয় বরং ভাইরাস বন্ধ করুন। নিউ ইয়র্ক কী করছে সেটা দেখুন। তারা ভাইরাস সংক্রমণ রেখা কমিয়ে আনার জন্য দারুণ চেষ্টা করছে। তারা মৃত্যুহার কমিয়ে এনেছে। আর আমি তার (ডোনাল্ড ট্রাম্প) মতো করে লাল রাজ্য বা নীল রাজ্য আলাদা করে দেখছি না। সবমিলিয়ে এটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপার।’

বাইডেনের প্রতিশ্রুতি

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে কী করবেন এমন বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এরই মধ্যে বাইডেন সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। বিগত চার বছরের ক্রমাগত সমালোচনার আলোকে বলা যেতে পারে স্বাস্থ্য খাতে আরও অনেক বেশি জোর দেবেন ডেলওয়্যার রাজ্যের সাবেক সিনেটর জো বাইডেন। ওবামার স্বাস্থ্যনীতির সঙ্গে তার ‘বাইডেন কেয়ার’ নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে আরও সুলভে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে এই নিশ্চয়তা তিনি দিয়েছেন। সবশেষ টিভি বিতর্কে বাইডেন এ ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা দেন। তিনি মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকই আরও সহজ স্বাস্থ্যনীতির দাবিদার এবং সেই দাবি পূরণ করবে তার বাইডেনকেয়ার নীতি।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতেও বাইডেনকে বেশ জোরালো অবস্থানে দেখা গিয়েছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসায় সারা বিশ্বেই বেশ সমালোচিত হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথমেই নতুন করে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আবারও ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন জো বাইডেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের লক্ষ্য কী? এমন একটা প্রশ্ন বরাবরই উঠে এসেছে। সাবলীল বাইডেন দুই বাক্যেই নিজের লক্ষ্য ব্যক্ত করেছিলেন সমগ্র আমেরিকার কাছেই। ‘এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। এই জাতিকে রক্ষা করা।’

ট্রাম্পের সমগ্র রাজনৈতিক পদ্ধতির সমালোচনা করে সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট তার এক প্রচারণায় বলেন, ‘রাজনীতি আসলে সাধারণ সাজসজ্জা, ব্যবসা আর মিডিয়ার সামনে কথা বলার চেয়ে অনেক বেশি সম্মানজনক একটি বিষয়। এই কাজগুলো দ্বিধাবিভক্তি আর অসমতা ছাড়া অন্য কিছুই এনে দিতে পারে না।’ মার্কিন জনগণের উদ্দেশে নিজের প্রচারণায় বাইডেন বাইবেলের উক্তি সামনে এনে বলেন, ‘বাইবেল আমাদের বলছে, ভেঙে পড়ার একটা সময় আছে। নতুন কিছু গড়ার একটা সময় আছে। আর কোনো কিছুর উন্নয়ন করারও একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। আমাদের উন্নয়নের এটাই সময়।’ এছাড়াও আরও বেশ কিছু ইস্যুতে বাইডেনকে সরব থাকতে দেখা গিয়েছে। টিভি বিতর্কে বাইডেন প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্পের নেওয়া কর ব্যবস্থাকে ঝেড়ে ফেলতে চান তিনি। এছাড়াও সব নাগরিকের ন্যূনতম বেতনের পরিমাণ বাড়াবার ঘোষণাও করেছেন বাইডেন। সেইসঙ্গে গ্রিন এনার্জিতে আরও বড় আকারের বিনিয়োগ করার পরিকল্পনাও আছে তার। আর সেই সঙ্গে ট্রাম্পের সময়ে বাড়তে থাকা বর্ণবৈষম্য ও জাতিগত বিদ্বেষ কমিয়ে আনতেও বদ্ধপরিকর বাইডেন।

টুইটারে ঝড়

টুইটারেও বেশ সাড়া ফেলেছেন জো বাইডেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটার ও ফেইসবুকে ঝড় তুলতে রীতিমতো অভ্যস্ত। সে তুলনায় কিছুটা নীরব বলা চলে জো বাইডেনকে। তবে এবার টুইটারেও বেশ আলোড়ন তুলেছেন বাইডেন। বেশ কিছু টুইটে মার্কিন নাগরিকদের ভাবনার বড় খোরাক জুগিয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। আক্রমণাত্মক হলেও এসব টুইটের ভাষাও ছিল বেশ পরিচ্ছন্ন। ‘আমরা যে ইস্যুর মুখোমুখি সেগুলো যে কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দল থেকে অনেক ওপরে। যে কারণে আমি সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হব। যারা ডেমোক্র্যাট, যারা রিপাবলিকান কিংবা যারা স্বাধীন, সবার জন্যই প্রেসিডেন্ট হব। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি কোনো কিছু অর্জন করতে চাই আমাদের একসঙ্গেই কাজ করতে হবে।’

ব্যক্তিজীবনে জো বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বন্ধুত্ব অনেকবারই আলোচনায় এসেছে। প্রেসিডেন্সি ছাড়ার পর বারাক ওবামা নিজেই স্বীকার করেছিলেন, তার ৮ বছরের প্রেসিডেন্ট জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন জো বাইডেনের সঙ্গে বন্ধুত্ব। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে সেই বন্ধু ওবামাকেও পাশে পেয়েছেন জো বাইডেন। টুইট বার্তায় বারাক ওবামা ও নিজের প্রসঙ্গে বাইডেন লিখেছেন, ‘বারাক ওবামা আর আমি দুজনেই খুব কাছ থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব কী সেটা দেখে এসেছি। আমরা জানি, এই কাজের জন্য ঠিক কী কী প্রয়োজন।’ ট্রাম্পের টুইটসহ নানাবিধ বক্তব্যেরও সরাসরি সমালোচনা করেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

‘একজন প্রেসিডেন্টের সব কথাই গুরুত্বপূর্ণ। আর বারবারই ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সহিংসতা, হিংসা, বৈষম্যের মতো বিষয় স্পষ্ট করে তুলছেন। আর এগুলো আমাদের অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এসবের ইতি ঘটানোর এখনই সময়।’ সবশেষ টুইট বার্তায় আরও একবার স্বাস্থ্যনীতিকে সামনে এনেছেন জো বাইডেন। ‘এমনভাবে ভোট দিন যেন ব্যালটে আপনার স্বাস্থ্য জড়িয়ে আছে। কারণ বিষয়টা আসলেই তেমন।’

সবশেষ জরিপ

প্রায় ১ কোটি আগাম ভোট পড়েছে এরই মধ্যে। ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল নির্বাচন কিংবা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন যেটাই বলা হোক না কেন, এমন ঘটনা এবারই প্রথম। এত বেশি আগাম ভোট আগে কখনওই পড়েনি। আর ভোট যত বাড়ছে জরিপের ফলাফল তত বেশি স্পষ্ট হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সবখানেই বেশ বড় ব্যবধানেই এগিয়ে আছেন জো বাইডেন। যদিও এতেই সবকিছু নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এর আগেও ভোটের ভিত্তিতে হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে ছিলেন অনেকটা। তবে ইলেকটোরাল কলেজের নিয়মে ট্রাম্পই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। গার্ডিয়ান পত্রিকার জরিপ অনুযায়ী, বাইডেনের অবস্থা বেশ ভালোই বলা চলে। ফ্লোরিডা, পেনসেলভানিয়া, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলিনা, অ্যারিজোনা, উইসকনসিন, আইওয়া রাজ্যে ব্যাপকভাবে এগিয়ে আছেন বাইডেন। এর মধ্যে বেশ কিছু রাজ্যে ২০১৬ নির্বাচনে জয়ী হিসেবে দেখা গিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তবে আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ওহাইওতে এখনো এগিয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়াও সবশেষ জাতীয় জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট যাচ্ছে বাইডেনের কাছে। আর ৪৩ শতাংশ পাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাকি ৫ শতাংশ এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় আছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনভিত্তিক ওয়েবসাইট 270towin ডটকমও প্রায় একই সুরে কথা বলছে। তবে তাদের জরিপে আইওয়াতে দশমিক ৬ শতাংশ এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। এ ছাড়াও ট্রাম্প বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন মিসৌরি, টেক্সাস, ইউটাহ, আলাবামা, আলাস্কা এবং আরকানসাসে। এই ওয়েবসাইটের দাবি, এখনো পর্যন্ত ওহাইওতে সমান সমান পর্যায়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ ক্যালিফোর্নিয়াতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পেরেছেন জো বাইডেন। বলে রাখা ভালো, ওহাইও নিয়ে আপাতত আলাদা পরিকল্পনা দরকার দুই প্রার্থীর। ১৯৬০ সালের পর থেকেই যে প্রার্থী ওহাইও রাজ্যে জয় পেয়েছেন তাকেই দেখা গিয়েছে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে। এবারের নির্বাচনে কী হতে যাচ্ছে সেটা জানার জন্য অপেক্ষা আর অল্প কিছু সময়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত