মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র ধর্মবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার মতো অপরাধ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৫১ এএম

মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্রকে (কার্টুন) ধর্মবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার মতো অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ফ্রান্স বিশ্বে যে অনাকাক্সিক্ষত পরিবেশ তৈরি করেছে, তা গোটা মানবজাতির ঐক্যকে হুমকিতে ফেলেছে। এ সংকট নিরসন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দেওয়ার গণতান্ত্রিক উদ্যোগ এখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকেই নিতে হবে।’

গতকাল রবিবার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

গত শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল মহানবীর (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের নিন্দা জানান এবং এ বিষয়ে মুসলিম উম্মাহসহ মানুষের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার কীসে প্রতিবাদ জানায়, কীসে জানায় না তা বলা দুরূহ। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব যেখানে প্রশ্নের সম্মুখীন, সীমান্তে গুলি করে আমাদের নাগরিক হত্যা করা হয়, সেসব বিষয়ে আমাদের সরকার কোনো প্রতিবাদ করে না। এখন পর্যন্ত জনগণের ইচ্ছা বা আকাক্সক্ষার পক্ষে সরকার কখনো অবস্থান নেয়নি। বর্তমান ঘটনাতেও সরকারের চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, ‘ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের প্রচারে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করছে। সব দেখেও ইসি ও পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তাবিত ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০২০’ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে কমিটি পর্যালোচনাসহ আইন সংশোধনের যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা কিছু সংশোধনীর মাধ্যমে গৃহীত হয়। এ প্রতিবেদন ইসিতে দেওয়া হবে এবং পরে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

এ ছাড়া বৈঠকে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বিএনপির ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় উদযাপন কমিটি অনুমোদন এবং এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। আর আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত