২০২১ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। চলতি বছরের মতো আগামী বছরও সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২২ দিন ছুটি থাকবে। এর মধ্যে পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ছুটির তালিকা অনুমোদনের কথা জানান। আগামী বছর সরকারি কর্মচারীদের ছুটির বড় একটি অংশই চলে যাবে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে। মন্ত্রিসভা ২০২১ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন করায় এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আদেশ জারি করবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আগামী বছরের জন্য ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে আট দিন সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ২২ দিন ছুটি থাকবে। এর মধ্যে সাতদিনের ছুটি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে।’ বরাবরের মতো এবারও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে পাঁচদিন, হিন্দুদের জন্য আটদিন, খ্রিস্টানদের জন্য আটদিন এবং বৌদ্ধদের জন্য পাঁচদিন।’
সাধারণ ছুটি : সাধারণ ছুটির মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ১ মে মে দিবস, ৭ মে জুমাতুল বিদা, ১৪ মে ঈদুল ফিতর, ২৬ মে বুদ্ধপূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা), ২১ জুলাই ঈদুল আজহা, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ৩০ আগস্ট জন্মাষ্টমী, ১৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী), ১৯ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন বা বড়দিন।
নির্বাহী আদেশে ছুটি : আগামী বছরের ২৯ মার্চ শবেবরাত, ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ১০ মে শবেকদর, ১৩ ও ১৫ মে ঈদুল ফিতরের আগের ও পরের দিন, ২০ জুলাই ও ২২ জুলাই ঈদুল আজহার আগের ও পরের দিন এবং ২৯ আগস্ট আশুরার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।
ঐচ্ছিক ছুটি : ঐচ্ছিক ছুটির (মুসলিম পর্ব) মধ্যে রয়েছে ১২ মার্চ শবেমেরাজ, ১৬ মে ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন, ২৩ জুলাই ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন, ৬ অক্টোবর আখেরি চাহার সোম্বা এবং ১৭ নভেম্বর ফাতেহান্ডইন্ডইয়াজদাহম। হিন্দুপর্বের ঐচ্ছিক ছুটির মধ্যে রয়েছে ১৬ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজা, ২১ মার্চ শিবরাত্রি ব্রত, ২৮ মার্চ দোলযাত্রা, ৯ এপ্রিল হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, ৬ অক্টোবর মহালয়া, ১৪ অক্টোবর দুর্গাপূজা (নবমী), ২০ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা এবং ৪ নভেম্বর শ্যামাপূজা। এছাড়া ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ভস্ম বুধবার, ১ এপ্রিল পুণ্য বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল পুণ্য শুক্রবার, ৩ এপ্রিল পুণ্য শনিবার, ৪ এপ্রিল ইস্টার সানডে এবং ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর যিশুখ্রিস্টের জন্মোৎসব (বড়দিনের আগের ও পরের দিন) হচ্ছে খ্রিস্টান পর্বের ঐচ্ছিক ছুটি।
ঐচ্ছিক ছুটির (বৌদ্ধপর্ব) মধ্যে রয়েছে ২৮ জানুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা, ১৩ এপ্রিল চৈত্রসংক্রান্তি, ২৩ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ২০ সেপ্টেম্বর মধুপূর্ণিমা এবং ২০ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণিমা (আশ্বিনী পূর্ণিমা)। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর বাইরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির মধ্যে রয়েছে ১২ ও ১৫ এপ্রিল বৈসাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর অনুরূপ সামাজিক উৎসব।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একজন কর্মচারীকে তার নিজ ধর্মানুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিনদিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি দেওয়া যাবে। প্রত্যেক কর্মচারীকে বছরের শুরুতে নিজ ধর্ম অনুযায়ী নির্ধারিত তিনদিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
যেসব অফিসের সময়সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব আইনন্ডকানুন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে বা যেসব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইনন্ডকানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে এ ছুটি ঘোষণা করবে বলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
বার্ষিক প্রতিবেদন অনুমোদন : মন্ত্রিসভা বৈঠকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলোর ২০১৯ন্ড২০ অর্থবছরের কার্যাবলি সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৯ন্ড২০ অর্থবছরে করোনা মহামারীর কারণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল এশিয়া এমনকি বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়েও বেশি। কভিডন্ড১৯ন্ডএর অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ ২০ হাজার ৫৩ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ আগের অর্থবছরের তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। মহামারী সত্ত্বেও রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা।’
গান্ধী আশ্রম আইনের খসড়া অনুমোদন : ‘গান্ধী আশ্রম (ট্রাস্টি বোর্ড) আইন, ২০২০’ন্ডএর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সামরিক শাসনামলের ‘দ্য গান্ধী আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টি অর্ডিন্যান্সন্ড১৯৭৫’ এর নতুন করে বাংলায় আইন নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন করে কোনো বিধান এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গান্ধী ট্রাস্টি একটি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হবে, একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। আইনের বিধানাবলি অনুযায়ী স্থাবরন্ডঅস্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও হস্তান্তর বোর্ডের কাছে থাকবে। সরকার একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে এবং ছয়জন ট্রাস্টি মিলে সাতজনের বোর্ড হবে।’
