ভয় ভেঙে গেলে বোধকরি সাহসও বেড়ে যায়। নতুবা উচ্চতা ভীতি নিয়েও অনেক উঁচুতে ওঠার দুঃসাহস দেখাতাম না। তবে এটাও ঠিক, একসঙ্গে অনেকে থাকলে মনোভাবটা কখনো কখনো হয়ে উঠতে পারে বেপরোয়া। তখন আর ভয়টা তেমনভাবে হয়তো কাজ করে না।
তেমন মনোভাবের কারণে ট্রেকিং করতে যাই কংলাক পাহাড়ে। সাজেকের সবচেয়ে উঁচু চূড়া। ১৮০০ ফুট উচ্চতা।
শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট না থাকলে এত উঁচুতে ওঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও উচিত নয়। দুই ক্ষেত্রেই ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এমন দুঃসাহসিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণ ঝাঁকের কই হওয়ার উচ্ছ্বাস।
অবশ্য পাহাড়ের শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যে রহস্যময়তা, যে দুর্গমতা, যে রোমাঞ্চকরতা, তা উদ্ঘাটনের একটা আকর্ষণ তো বরাবরই ছিলই। সেই আকর্ষণটা কখনোই দুর্বার হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এবার অনেক সঙ্গী-সাথি থাকায় দীর্ঘ দিনের অভিলাষটা পূরণে সাহসী হয়ে উঠি। সেই সাহসে বলীয়ান হয়ে বীরের মতো ছুটতে থাকি। কিছুক্ষণ পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতি মন্থর হতে থাকে। পা আর চলতে চায় না। শরীর ভেঙে পড়তে চায়। বিপজ্জনক ফাঁদগুলোর ছলাকলায় প্রতিনিয়ত ছিটকে পড়ার হাতছানি।
যে প্রস্তুতি নিয়ে পাহাড়ে উঠতে হয়, সেটাও আমার ছিল না। কয়েকবার স্লিপ খেতে খেতে বরাত জোরে রক্ষা পাই। যে কারণে পাহাড়ে ওঠার সময় উচ্ছ্বাসটা ক্রমশ মিইয়ে আসতে থাকে। ক্ষয়ে যেতে থাকে প্রাণশক্তি।
তারপরও হতোদ্যম না হয়ে এগিয়ে যাই। সহযোগীদের অনুপ্রেরণায় একের পর এক ধাপ পেরিয়ে যেতে থাকি। মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিয়ে শক্তিসঞ্চার করতে হয়। কীভাবে কীভাবে যেন একটা সময় পৌঁছে যাই শীর্ষে। নিজেকে তখন এভারেস্ট বিজয়ী মনে হতে থাকে। জীবনে কখনো এতটা উঁচুতে উঠব, এটা আমি কল্পনাও করিনি। আজ বুঝতে পারি, মাঝে-মধ্যে কল্পনাও সত্যি হয়ে যায়!
লেখক: সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক, সম্পাদক- ক্রীড়াজগত।
