১৬ দিনে গড়াল প্রাথমিকে উত্তীর্ণদের আমরণ অনশন

মুজিববর্ষেই নিয়োগ চান প্রার্থীরা

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪৫ এএম

শূন্যপদের বিপরীতে প্যানেলের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি গতকাল বুধবার ১৬তম দিনে গড়িয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করছেন ২০১৮ সালের নিয়মিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ এসব চাকরিপ্রার্থী মুজিববর্ষেই তাদের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করার দাবি জানিয়েছেন। ফলাফল প্রকাশের পর গত দুই বছর ধরে নিয়োগ পাওয়ার আশায় থাকা এসব আন্দোলনকারী তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের সামনে আমরণ অনশন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। কারণ তারা এর আগে তাদের দাবির বিষয়টি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ  হাসিনা বরাবর চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া ১৮০ জন সংসদ সদস্য তাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) দিয়েছেন। পাশাপাশি সংসদীয় কমিটিও তাদের বিষয়ে সুপারিশ করেছে। কিন্তু এসবে কোনো কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা অনশনে বসেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতের ওপর প্রতীকী সাদা কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। কথা হয় নীলফামারী থেকে আন্দোলনে অংশ নিতে আসা  হুমায়ূন রশিদ বিপ্লবের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রায় দুইশ’ সংসদ সদস্যের ডিও লেটার এবং সংসদীয় কমিটির সুপারিশ গুরুত্ব দেয়নি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু করোনা মহামারীর মধ্যে নতুন করে ৩২ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না, আন্দোলন কর্মসূচি চলিয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষা দিয়েছি এবং শূন্যপদও রয়েছে। তাহলে কেন আমাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না তা আমরা আজও জানতে পারছি না।’

প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ প্রত্যাশীদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে দুই বছর পার হয়ে গেছে। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যাদের সরকারি চাকরির বয়স শেষ। তারা এখন কোন দিকে যাবে, কী করবে? সংসদীয় কমিটির সুপারিশও রয়েছে প্যানেল নিয়োগের জন্য। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্যানেলে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তাই আমরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। আমরা আমাদের দাবি আদায় করে তবেই ঘরে ফিরব।’

অনশন কর্মসূচিতে আসা আনিছুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘ আমি একজন শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষ। ২০১৮ সালের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও আমি কেন নিয়োগ পেলাম না? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন যাতে আমাদের এই মুজিববর্ষেই নিয়োগ দেওয়া হয়। আমরা কাজ করে খেতে চাই।’

পিরোজপুর থেকে আসা হাসান আল মামুন বলেন, ‘দেশে ৭০০-এর বেশি স্কুল আছে, যেখানে একজন করে শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। যেহেতু আমরা ২০১৮ সালে শূন্যপদের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি, সেহেতু আমরা চাই এই মুজিববর্ষে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হোক। এটি আমাদের প্রাণের দাবি, আমাদের আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।’

আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. তাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা (আন্দোলনকারীরা) অন্ধকারের মধ্যে আন্দোলন করছে। আমাদের এ ধরনের কোনো প্যানেল নেই, আর সুপারিশও নেই।’

জানা গেছে, ২০১৮ সালের নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদন করেন ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৭ জন। পরে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হন ৫৫ হাজার ২৯৫ জন। শূন্যপদ বাকি রেখেই নিয়োগ দেওয়া হয় মাত্র ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে। উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার ১৪৮ জন প্যানেলভুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। পরে এ বছরের ২৬ আগস্ট অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় প্রাথমিক শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে প্যানেল পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত