মার্কিন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান প্রার্থী আবুল বি খান। এ নিয়ে চারবার তিনি এই পদে নির্বাচিত হলেন। গত মঙ্গলবারের ভোটে আবুল খান পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৪৪ ভোট। অপরদিকে তার বিরোধীদলীয় প্রার্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্যাটরিসিয়া ও’কেফি পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪৮ ভোট।
জয়ের বিষয়ে আবুল খান বলেন, ‘আমার খুবই ভালো লাগছে। এটা আমার ডিস্ট্রিক্ট এবং আমি এখানে রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে ছয় বছর ধরে কাজ করছি। যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাদের জন্য আমি আরও বেশি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’ আবুল খান বাংলাদেশের পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে। ১৯৮১ সালে আবুল খান যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নেন।
চলতি মার্কিন নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চারজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তারা আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে টেক্সাসের অস্টিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী ডোনা ইমাম, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট বাংলাদেশের আবুল ফের সিনেটর সিনেটর শেখ রহমান ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের অডিটর জেনারেল পদপ্রার্থী ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ। ড. নীনা জয়ী হলে তিনিই হবেন পেনসিলভানিয়ায় প্রতিনিধিত্বকারী সর্বোচ্চ পদে থাকা কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকান। ফলে এ নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ অনেক। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে এই কভিড-১৯-এর মধ্যেও দিনরাত তার জন্য কাজ করেছেন। এদিকে টেক্সাসে হঠাৎ করেই আলোকবর্তিকা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক জঞ্জাল পেয়েছি
হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডোনা ইমাম। তিনি ইউএস জাতীয় কংগ্রেসে সেখানকার ডিস্ট্রিক্ট ৩১ থেকে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের প্রার্থী হয়েছেন। রিপাবলিকান এই স্টেটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েও ডোনা বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। বিজয়ী হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করেছেন তিনি।
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর পদে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান। এবার তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গত ৯ জুন হওয়া দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে কেউ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। একই সঙ্গে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট আসন-৫-এ রিপাবলিকানও কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে শেখ রহমানের বিজয়ী হওয়া সময়ের ব্যাপার বলেই ধরে নেওয়া যায়।
