প্রিয় ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হয়েছে পুরো এক বছর। সময়টা যে কারো জন্যই বিষাদময় হয়ে থাকার কথা। তবে সাকিব আল হাসান তো ভিন্ন ধাতুতে গড়া। সবার থেকে তার ভাবনাও আলাদা। তাই আইসিসির দেওয়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে অনেক কিছু মিস করছেন বলে ব্যাকুল হননি কখনো। তবে নিষেধাজ্ঞা ও করোনাভাইরাসের কারণে পাওয়া অপ্রত্যাশিত এই বিরতিটা ঠিকই তার মনোজগতে বড় প্রভাবই রেখে গেছে।
সাকিব বলছেন, করোনা ও নিষেধাজ্ঞার সময়টা তাকে জীবন নিয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শিখিয়েছে।
বুধবার রাতে দেশের সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার তার ইউটিউব চ্যানেলে হাজির হয়েছিলেন ভক্ত ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে। সেখানেই দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার খাইরুল আমিন তুহিনের প্রশ্নের উত্তর সাকিব এ কথা বলেন।
প্রশ্নটি ছিল এমন, ‘ক্রিকেট শুরুর পর এতটা সময় কখনো পাননি। নিষেধাজ্ঞা ও করোনা সেই সুযোগ করে দিয়েছে। জীবন দর্শনে এর প্রভাব পড়েছে কতটা এবং তা পড়লে জীবন নিয়ে আগের ভাবনা ও এখনকার ভাবনার কোনো ভিন্নতা আছে কিনা?’
উত্তরে ৩৩ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বলেন, ‘অবশ্যই ভিন্নতা আছে। করোনা, আমার নিষেধাজ্ঞা- এই দুইটা আমাকে জীবন নিয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শিখিয়েছে। অনেক ভিন্ন ভাবে চিন্তা করতে শিখিয়েছে, অনেক বেশি আইডিয়া করার সুযোগ করে দিয়েছে আমাকে।’
সাকিব মনে করেন তার মধ্যে অনেক বেশি পরিপক্বতা এসেছে এই সময়ে, ‘এ রকম স্ট্রাগল না আসলে মানুষ শিখতে পারে না বলে আমার বিশ্বাস। মানুষ যখন এ রকম জায়গা থেকে কামব্যাক করে তখন বেশি পরিপক্ব হয়েই কামব্যাক করে। আমারো সেটাই চেষ্টা থাকবে।’
যোগ করেন, ‘আমার ধারণা আমি অনেক ভিন্নভাবে চিন্তা করি এখন, এক বছর আগে যেভাবে চিন্তা করতাম তা থেকে। এটা আমার জীবনে অনেক বেশি হেল্প করবে বলে আমি মনেকরি।’
জুয়াড়িদের কাছ থেকে অনৈতিক প্রস্তাব পেয়েও তা গোপন করেছিলেন সাকিব। তাই ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আইসিসি এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় তাকে। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে এরই মধ্যে। এখন মাঠের লড়াইয়ে ফেরার অপেক্ষায় সাকিব।
সব ঠিক থাকলে বিসিবির আসছে টি-টোয়েন্টি কাপেই তাকে মাঠে দেখা যাবে। যে আসরে খেলতে বৃহস্পতিবারই তিনি দেশে ফিরতে যাচ্ছেন বলে খবর।
