নাটক-সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব কনটেন্টেও বাবু

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩২ পিএম

গুণী অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু নাটক ও সিনেমা দুই মাধ্যমেই সমানতালে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি ওয়েব কনটেন্টেও কাজ করছেন। সময় কেমন কাটছে জানতে চাইলে ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘এই সময়টা বেশ ভালোই কাটছে। পরিবার-পরিজন আর কাজ নিয়েই আমার দিনযাপন। তবে করোনা যেহেতু এখনো শেষ হয়নি, তাই কিছু বাড়তি সতর্কতা নিয়ে থাকতে হচ্ছে।’

সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু নাটক, শর্টফিল্ম হাতে আছে। কয়েকটা সিনেমার কাজও হাতে আছে। এগুলোর কিছু কিছুর কাজ শেষ হয়েছে, মুক্তি পায়নি আবার কিছু কিছুর কাজ অল্প বাকি আছে।’

ফজলুর রহমানের হাতে রয়েছে অভিনেতা মীর সাব্বির পরিচালনায় ‘রাত জাগা ফুল’, নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘জ্যাম’, ‘মিশন এক্সট্রিম’, মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ‘অর্জন একাত্তর’, রেজওয়ান সুমিতের ‘নোনা জলের কাব্য’, গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘পাপ-পুণ্য’ ও চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’, জয়া আহসানের ‘ফুড়ুৎ’, শিশু একাডেমির ছবি ‘উড়াল’।

শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত হতে যাওয়া চলচ্চিত্রে মোশতাক চরিত্রে অভিনয় করবেন বাবু। চরিত্রটি ঘিরে প্রস্তুতি কেমন চলছে জানতে চাইলে বাবু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে অভিনয় করতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার। এই সিনেমায় আমি মোশতাকের চরিত্রে অভিনয় করব। আমি মোশতাকের ওপর পড়ালেখা করছি। চেষ্টা করছি মোশতাক চরিত্রটাকে বোঝার। এভাবেই নিজে নিজে যতটা প্রস্তুতি নেওয়া যায় নিচ্ছি।’

মনপুরা সিনেমায় ফোক গানে কণ্ঠ দিয়ে গায়ক হিসেবেও জনপ্রিয়তা পান ফজলুর রহমান বাবু। গানের খবর জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝেই টুকটাক করে গান গাচ্ছি। সম্প্রতি একটা সিনেমার প্লেব্যাকও করলাম।’

মঞ্চনাটক থেকে টিভি নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করে আসা বাবু এখন ডিজিটাল কনটেন্টেও অভিনয় করছেন। ডিজিটাল কনটেন্টে কাজ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মঞ্চ, নাটক, সিনেমা সবই ভিন্ন ভিন্ন জায়গা। একটার সঙ্গে আরেকটার তেমন মিল নেই। এখন ওয়েব ফিল্ম, শর্টফিল্ম এগুলোতে কাজ করছি। কারণ নির্মাতারা এখন ডিজিটাল কনটেন্টের দিকে ঝুঁকছেন। আমাদেরও কাজ করতে হচ্ছে। বেশ ভিন্নতা নিয়েই হাজির হচ্ছে ডিজিটাল কনটেন্টগুলো।’

দীর্ঘ অভিনয়জীবন তার। অভিনয়জীবন নিয়ে তিনি তৃপ্ত কি না, জানতে চাইলে বাবু বলেন, ‘জীবন নিয়ে অবশ্যই তৃপ্ত। অভিনয়জীবন, সংসারজীবনÑসবই ভালো কাটছে। অতৃপ্তি নিয়ে বলতে চাই না। তবে আমি চেষ্টা করেছি জীবনটাকে সার্থক করে গড়ে তুলতে। মানুষের কাছে গ্রহণীয় হয় এমন কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছি। জানি না, কতটুকু পেরেছি।’

১৯৭৮ সালে ফরিদপুরে বৈশাখী নাট্যগোষ্ঠীতে যোগদানের মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন ফজলুর রহমান বাবু। ১৯৮৩ সালে অগ্রণী ব্যাংকে যোগ দেন। চাকরি সূত্রে ঢাকায় আসার পর আরণ্যক নাট্যদলে যোগ দেন। পাথার ও ময়ূর সিংহাসনসহ বেশ কিছু আলোচিত নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।  এরপর ইতিকথা, সুন্দরী, দানবসহ বেশ কিছু নাটকের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ছোটপর্দার অপরিহার্য মুখ। এ পর্যন্ত কয়েক শ খণ্ড ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। আহা!, স্বপ্নডানায়, দারুচিনি দ্বীপ, মেড ইন বাংলাদেশ, মনপুরা, অজ্ঞাতনামা, স্বপ্নজাল ও হালদার মতো আলোচিত সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পাশ্বঅভিনেতা ও কমেডি বিভাগ মিলিয়ে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন বাবু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত