রাজধানীতে অস্ত্র মাদকসহ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩১ এএম

রাজধানীর আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মনিরুজ্জামান ওরফে মনিরকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদাবর থানা এলাকার পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতা মনিরের বিরুদ্ধে জমি দখল, অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৭০টির মতো মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং ও চন্দ্রিমা উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব-২-এর অপস অফিসার মামুন আওয়ামী লীগ নেতা মনিরকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব।’

র‌্যাব কর্মকর্তা ও আদাবর থানা এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলে ব্যাগভর্তি ডলার নিয়ে সপরিবারে রাতারাতি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান মনির। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে গত ঈদুল আজহার সময় দেশে ফেরেন তিনি। আর দেশে ফিরেই ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং ও চন্দ্রিমা উদ্যানে দখলবাণিজ্য শুরু করেন। গত তিন মাসে জাল কাগজপত্র বানিয়ে শুধু ঢাকা উদ্যানেই চারটি প্লট দখল করেছেন মনির। তার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র মোহাম্মদপুর থানা ও আদালতে চাঁদাবাজি, জবরদখল, মাদক, অস্ত্র, নারী নির্যাতন ও চুরিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে।

মনির বাংলাদেশ বিমানের জুনিয়র পার্সার কাজী আশরাফ আল কাদের ও তার স্ত্রী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা খাদিজা আক্তারের প্লট দখল করে নেন। আরেক ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোস্তফা নাজিম ঢাকা উদ্যানের সি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কের একটি প্লটে চলতি বছর বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন মনির। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা ও লুটপাটের শিকার হন মোহাম্মদপুরের বছিলা রোডের আজহার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বরকত উল্লাহ। প্রায় দেড় দশক আগে মোহাম্মদপুর এলাকার বিএনপি সমর্থক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাঈদ ব্যাপারীর হাত ধরে দখলবাণিজ্যে মনিরের হাতেখড়ি। স্থানীয় কয়েকজন কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতাকে হাত করে চাঁদাবাজি ও দখলবাণিজ্য চালাতেন তিনি।

র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনির ইয়াবা কারবারে জড়িত। মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত থাকা পুলিশের এসআই আতিক তার হয়ে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান ঢাকায় নিয়ে আসতেন। মাস দুয়েক আগে আতিক ইয়াবার চালানসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আতিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে মনিরের আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী হুমায়ুনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও গডফাদার মনির ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করল র‌্যাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত