সংসদ লেকে ভাসানো হলো বাংলার ঐতিহ্য ‘গয়না নৌকা’

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৪১ এএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংসদ ভবনের লেকে দৃষ্টিনন্দন দুটি গয়না নৌকা ভাসানো হয়েছে। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে নৌকা দুটি ভাসানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার নৌকা ভাসানো কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।

এ সময় তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপাদমস্তক একজন বাঙালি। তিনি বাঙালি জাতিসত্তা ও সংস্কৃতিকে লালন করতেন এবং বাঙালির সংস্কৃতির মুক্তি ও তা বিশ^দরবারে তুলতে এ দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তার দলীয় প্রতীকও নৌকা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা এবং এ দেশের সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করতে হবে, প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে হবে। এ জন্য যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে রয়েছে সমৃদ্ধিশালী ইতিহাস, ঐতিহ্য। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকা এ দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতির একটি মৌলিক উপাদান। ঐতিহ্যবাহী নৌকাগুলো টিকিয়ে রাখার জন্য নিয়মিত নৌকা বাইচ, নৌকা মেলা এবং নৌকা জাদুঘর স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন নদীমাতৃক বাংলাদেশ নৌ পর্যটন উন্নয়ন এবং আবহমান বাংলার নৌকাগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বিশ^দরবারে তুলে ধরতে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এগুলো দ্রুতই বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস বলেন, নৌকা এবং নদীর সঙ্গে রয়েছে আমাদের সভ্যতা সৃষ্টির আত্মিক সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে নৌ পর্যটন উন্নয়নে বাপকের উদ্যোগে ট্যুরিস্ট ভেসেল সংগ্রহের কাজ চলছে। এ ছাড়া নৌকা ও নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, ‘আবহমান বাংলার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো সংরক্ষণ এবং যথাযথ প্রচারের উদ্যোগ নিতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, শামসুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সৈয়দ রুবিনা আক্তার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান।

দৃষ্টিনন্দন এই নৌকা দুটি তৈরিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। নৌকা দুটি ২৭ ফুট লম্বা ও ৫ ফুট চওড়া। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে নৌকা দুটি তৈরি করা হয়। এর ডিজাইনও তিনি করেছেন। পরে প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান চূড়ান্ত ডিজাইনটি করেছেন। তৈরির আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এটি দেখে সম্মতি দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত