আসন্ন শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বা নতুন করে সংক্রমণ ঠেকাতে খুবই সতর্ক সরকার। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। গত অক্টোবরে দু’দফা এবং এ মাসেও আরেক দফা মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এ জন্য ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ ও ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি ও বেসরকারি সর্বক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি ব্যাপকভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রয়োজনে সামাজিক আন্দোলন, প্রচারাভিযানসহ যেভাবেই হোক এটি নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। সেদিন বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সরকারি অফিসের পাশাপাশি বেসরকারি অফিসগুলোতেও মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মাস্ক ছাড়া কেউ কোনো সেবার জন্য গেলে তাকে সেই সেবা দেওয়া হবে না। এ সময় মাস্ক ব্যবহারে সরকারের দেওয়া নানা নির্দেশনার কথাও জানান তিনি। মাস্ক ব্যবহারে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েরও নানা উদ্যোগের কথা জানা গেছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদের ঘোষণার অনেক আগেই, অর্থাৎ গত অক্টোবরের প্রথম দিকেই এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে যতগুলো মন্ত্রণালয় আছে, সবার সঙ্গে মিটিং করে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশে যত সিভিল সার্জন আছেন ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয় আছে, সবাইকে বলেছি প্রচার করার জন্য। তারা স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক, স্থানীয় সরকারের লোকজন, পৌরসভা সকল পর্যায়ে সবার সঙ্গে বসে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি প্রচার করছে। হুজুররা যেন ওয়াক্ত ও জুমার নামাজের আগে বা পরে এটা বেশি করে প্রচার করেন। একটা ব্যানার করেছি আমরা। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’। এটার বাংলা করেছি ‘সেবা নিন, মাস্ক পরুন’। এ ধরনের ব্যানার লোগোসহ সব জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা এগুলো আগেই শুরু করেছি।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বণিক মালিক সমিতিকে চিঠি দিয়েছি। দোকান মালিক সমিতিকে চিঠি দিয়ে বলেছি, দোকানের মালিকরা যেন ক্রেতাদের বলেন জিনিসপত্র নিতে এলে মাস্ক পরে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করা হবে। কেউ কেউ বলছেন, আমরা আইন প্রয়োগ করছি না কেন। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তো আমরা না। সেটা ওই সংস্থা করবে। আমরা সচেতনতা বাড়ানোর জন্য যা করার করছি। আমরা অনেক আগেই এই কর্মসূচি নিয়েছি। ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইনে আমরা শিশুর সঙ্গে মা বা অন্যদের মাস্ক পরতে বাধ্য করছি। মাস্ক পরার জন্য এখন ফোর্স করতে হবে। যেখানে সম্ভব হচ্ছে মাস্ক দিচ্ছি।
কিন্তু মাঠপর্যায়ে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। সরকারি ও বেসরকারি অফিস, দোকানপাট, মন্ত্রণালয়, গণপরিবহনসহ বিভিন্ন সেক্টরে এখনো মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে ভীষণ শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। রাজধানীতে খুব কমসংখ্যক মানুষই মাস্ক পরছেন। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারের ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ এখনো প্রজ্ঞাপন ও চিঠিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ‘সেবা নিন মাস্ক পরুন’ লেখা সংবলিত ব্যানার টানানো হলেও মাস্ক পরার ক্ষেত্রে কাউকেই বাধ্য করা যাচ্ছে না। এমনকি রাজধানীতে এ ধরনের ব্যানারও চোখে পড়ছে না।
বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্যানার টানানো হয়েছে। কিন্তু ১০ শতাংশ মানুষও মাস্ক পরছে না। সরকারি ও বেসকরারি অফিস আদালতে কোথায় এখনো ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ সে অর্থে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সবেমাত্র জেলাগুলোতে প্রচারণা শুরু হয়েছে।
সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা গত মার্চ-আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে এক জরিপ করে। গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত এই জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৪৮ শতাংশ মানুষ মাস্ক পরেন না। অথচ মাস্ক ব্যবহার করলে করোনার ঝুঁকি কমে, এমন মত এসেছে ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ।
সে মাসের ২৭ আগস্ট ব্র্যাক, লাইফবয় ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত আরেকটি অনলাইন জরিপ প্রকাশ করা হয়। গত ৩১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, গরম ও অস্বস্তিতে মাস্ক পরেন না ৬৭ শতাংশ মানুষ। সেখানেও মাস্ক ব্যবহার করলে করোনার ঝুঁকি কমে, এমন মত এসেছে ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সাধারণ মানুষের প্রতি মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাস্ক পরার প্রয়োজন একটাই আপনার নিজেকে সুরক্ষা করা ও অন্যকেও সুরক্ষিত রাখা। এখন উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা তো জানি না কে পজিটিভ, কে নেগেটিভ। কাজেই পরস্পরের জন্যই মাস্ক দরকার। আমার নিজেকে যেমন অন্যের থেকে সুরক্ষা রাখতে এবং অন্যেরও আমার থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে মাস্ক পরা জরুরি।
এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দায়িত্ব শুধু স্বাস্থ্য বিভাগে মাস্ক পরা নিশ্চিত করা। তারপরও আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে চিঠি দিয়েছি। সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের। সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
রাজধানীর বাইরে সিভিল সার্জনরা সবেমাত্র ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ ও ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ সংবলিত একটি প্রজ্ঞাপন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উত্তরাঞ্চলের তিন সিভিল সার্জন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারের এই নির্দেশনা সংক্রান্ত একটা প্রজ্ঞাপনের মতো করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রত্যেক অফিসের সামনে ব্যানার টানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে এটা এখনো বাস্তবায়ন সে অর্থে শুরু হয়নি।
এ ব্যাপারে দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ বি কুদ্দুস দেশ রূপান্তরকে বলেন, মানুষ এখনো মাস্কের ব্যাপারে উদাসীন। হয়তোবা সরকারের অফিসগুলোতে এসব ব্যানার টানানো হচ্ছে, কিন্তু সেখান থেকে বের হলে দেখবেন যে মাস্ক নেই। মাস্ক পকেটে রেখে দেয়। কোথাও কড়াকড়ি পরিস্থিতি দেখলে পড়ে।
এই সিভিল সার্জন আরও বলেন, ১০ ভাগ মানুষেরও মাস্ক নেই। মাস্ক পরার দরকারটা যদি সাধারণ মানুষ না বোঝে তাহলে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। মোবাইল কোর্ট চালু আছে, কিন্তু এটা দিয়ে তো সব করা সম্ভব নয়। মানুষের ভুল ধারণা আছে, দেশে রোগী কম, যাদের এখনো হয়নি বা যাদের একবার হয়েছে, তাদের আর হবে না। এখন লোকজন পরীক্ষাও করতে চায় না। এই কারণে অতটা মাস্ক দেখা যাচ্ছে না। যদিও আমরা চেষ্টা করছি, প্রচার প্রচারণা চলছে, মোবাইল কোর্টও চলছে। কিন্তু ১০ শতাংশ বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না সন্দেহ আছে।
দক্ষিণাঞ্চলের এক সিভিল সার্জন দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না। বাস্তবায়নের জন্য নতুন কিছু ভাবতে হবে। এখন প্রচার হচ্ছে যে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’, আগে প্রচার ছিল ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’। অথচ এখন বাজার, রাস্তাঘাট, অফিস বা দোকান কোথাও মাস্ক পরা হচ্ছে না বললেই চলে। এসব জায়গায় মাস্কের ব্যাপারে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো খোঁজখবর রাখা হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম বিভাগের এক সিভিল সার্জন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রচার তো করতেই হবে। সব ডিপার্টমেন্ট, রাজনীতিবিদ, অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা সবাই মিলে একটু চেষ্টা করতে হবে। কেন মাস্ক পরা দরকার, সেটা মানুষকে বোঝাতে হবে। কিন্তু সেই কাজটাই হচ্ছে না। শুধু নির্দেশনা দিয়ে কাজ হবে না।
গত অক্টোবরের প্রথম দিকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি মানতে চিঠি দেয়। সেখানে বলা হয় দোকান মালিক ও বিক্রেতা মাস্ক না পরলে সে দোকান বা বিক্রেতা কোনো পণ্য বিক্রি করতে পারবেন না। আবার মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতার কাছেও তারা পণ্য বিক্রি করবেন না। কিন্তু রাজধানীসহ দেশের কোথাও এই নির্দেশ বাস্তবায়ন হতে দেখা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে দোকান মালিক সমিতিগুলোকে মাস্ক ছাড়া পণ্য বিক্রি না করার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। এর অনেকটা বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সমস্যা হলো দোকানগুলো সরাসরি আমাদের সদস্য নয়। দোকান মালিক সমিতিগুলো আমাদের সদস্য। আর আমাদের অধিকাংশ সমিতি আর্থিকভাবে দুর্বল। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। এজন্য আমরা দোকানদার ও পথচারীদের বিনামূল্যে মাস্ক দেওয়ার কথা ভাবছি। এছাড়া আমরা প্রতিটি দোকানে মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতামূলক পোস্টার লাগানোর বিষয়ে কাজ করছি।
মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গত আগস্ট থেকেই নানা উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে সরকারকে। সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট বাড়ির বাইরে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে এর আগেও সরকার কয়েক দফা নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়। গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে আদেশ জারি করে সরকার। এর আগে গত ৩০ মে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সর্বসাধারণের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে আরেকটি পরিপত্র জারি করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জীবাণুনাশক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়া ‘বেআইনি’ বলেও উল্লেখ করা হয়। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইনের আওতায় মাস্ক না পরে বের হলে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডই কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনা ও বিধি খুব একটা কার্যকর করতে দেখা যায়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে। এ ব্যাপারে দুই সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, শাস্তি কার্যকর করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং করোনা পরীক্ষা কমেছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য সরকার ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার পর থেকেই এ সংখ্যা কমছে।
‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেন শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, যথাযথ নিয়ম ও নজরদারি না থাকার কারণে এই শিথিলতা দেখা যাচ্ছে এবং এসব ক্ষেত্রে জনসম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে শুধু নির্দেশনা জারি করে কোনো লাভ নেই। এই নির্দেশনা বাংলাদেশে মাস্ক ব্যবহারে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। কারণ আগেও এ ধরনের প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। কোনো লাভ হয়নি। এজন্য জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে, আর জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সরকার সবাইকে যুক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শুধু নির্দেশনা, লিফলেট, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড মানুষের ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না।
