সাকিবের বিধিভঙ্গেও বিসিবি নিস্পৃহ

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:০৩ এএম

বাংলাদেশে ফেরার আগের দিন সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, তিনি এখন থেকে বিতর্ক এড়িয়ে চলবেন। মানে জড়াবেন না। কিন্তু সব সময় বিতর্ক যাকে তাড়া করে ফেরে তার পক্ষে বিতর্ক থেকে সব সময় বাঁচা কতটা সম্ভব? এই যে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডার জড়িয়ে পড়েছেন বিতর্কে। ওইদিন গুলশানের একটি সুপারস্টোরের ফিতা কাটতে গিয়েছিলেন। সেখানে জনসমাগম ছিল যথেষ্ট। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই এখন।

সরকারের করোনা বিধি অনুযায়ী বিদেশফেরতদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়। জাতীয় দলের বিদেশি কোচ ও স্টাফদের জন্য অবশ্য সেটা শিথিল করা হয়েছিল। এমনকি সাকিবও কিন্তু সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফরকে টার্গেট করে দেশে ফিরে আগে করোনা টেস্ট করিয়ে তারপর বিকেএসপিতে নির্জন আবাসিক ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন।

কিন্তু এবার চমকে দিলেন সবাইকে। যদি দেশে ফিরে করোনা টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে আসতেন তাহলে ভিন্ন কথা ছিল। ঝামেলাটা ওখানেই। গতকালই সাকিবের করোনা টেস্ট করানো হয়েছে। কিন্তু ঘটনা তার আগের দিন। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই আপাত বিতর্কিত বিষয়টাকে কীভাবে দেখছে?

কাজটা করা সাকিবের উচিত হয়নি। অফ দ্য রেকর্ডে এই কথা দায়িত্ববানদের। কিন্তু এর মধ্যে একটা ফাঁক আছে। যখন বিষয়টা ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট। সাকিবকে ফিরে পেতে ক্রিকেট বোর্ড মরিয়া। কে জানে হয়তো সে কারণে বিসিবির সবার ভাষ্য প্রায় এক রকম। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান ও বোর্ডের অন্যতম পরিচালক আকরাম খান বিষয়টাকে সাকিবের নিজস্ব বিষয় হিসেবে দেখেছেন, ‘এটা সাকিবের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা তো আমাদের কিছু না। ভালো-খারাপ বোঝা তো সবার নিজস্ব ব্যাপার। সেটাতে তো আমাদের কিছু বলার নেই।’ করোনা পরিস্থিতিতে ক্যাম্প চলে বায়ো-বাবল পরিবেশে। গেল মাসের বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ টুর্নামেন্টও সাফল্যের সঙ্গে শেষ হয়েছে সেভাবে।’ সেটা মনে করিয়ে দিয়ে আকরাম খান বলেছেন, ‘বায়ো-বাবলে থাকলে ক্রিকেটারদের দেখভালের দায়িত্ব বিসিবির। এই মুহূর্তে সাকিব সেই পরিবেশের মধ্যে নেই। তাই তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আমাদের কিছুই বলার নেই।’

তার ওপর বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের পর সব ক্রিকেটারকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। কে কোথায় কীভাবে আছেন সেই খোঁজ রাখার উপায় বিসিবির নেই। ‘ক্রিকেট বোর্ডের খেলোয়াড়রা তো এখন ফ্রি আছে। ওরা এই সময়ে কী করছে না করছে সেটা তো আমাদের কিছু না। আমরা যখন ক্যাম্প ডাকব তখন সেটা আলাদা ব্যাপার।’ এর সঙ্গে আকরাম যোগ করেন, ‘করোনা টেস্টে ‘নেগেটিভ’ হয়ে ফিটনেস টেস্টে এলে তো সমস্যা নেই আমাদের।’

আমেরিকা থেকে ‘নেগেটিভ’ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। কিন্তু দেশে ফিরে করোনা বিধি মানেননি। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনও বিষয়টিকে হালকা করে দিয়ে সাকিবের জন্য বিসিবির নিয়মটা মনে করিয়ে দিলেন, ‘সে করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে ফিরে এসেছে। এখনো বিসিবির মেডিকেল টিমের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেনি। একবার তা করলে সে বিসিবির স্বাস্থ্য নির্দেশিকার আওতায় থাকবে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই মাসের শেষের দিকে আয়োজন করছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। ওই আসর দিয়ে সাকিব ফিরবেন। আগামীকাল অন্যদের সঙ্গে তার ফিটনেস টেস্ট হবে বিসিবিতে। জাতীয় দল, এইচপি টিম ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সেটআপের বাইরের খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক এই টেস্ট। সোমবার প্রথম টেস্টটা সাকিবের। ওই ক্যাম্পের জন্য ডাকা সাকিবসহ ১১৩ জনের প্রত্যেককে কি করোনা টেস্টের ‘নেগেটিভ’ সনদ নিয়ে মিরপুরে যেতে হবে? বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী সাফ জানাচ্ছেন এখন ওটার প্রয়োজন নেই, ‘দল যখন ঘোষণা হবে তখন এটার দরকার হবে।’ কিন্তু সাকিব বিদেশফেরত। তারপরও কি দরকার নেই তার ওই টেস্ট? ‘না না। এটা তো ভিন্ন একটা ব্যাপার।’ দেবাশীষ বিষয়টা পরিষ্কার করে জানালেন, ‘নিয়ম অনুসারে ও আজকে (গতকাল) টেস্ট করিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত