ভোজ্যতেলের পর এবার গম ও ভুট্টার আটায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ করার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। গত শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য সমৃদ্ধকরণ সম্মেলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ তথ্য জানান। ‘সংকটকালে টিকে থাকতে সক্ষম খাদ্য ব্যবস্থা- খাদ্য সমৃদ্ধকরণের ভূমিকা’ শীর্ষক ঐ সভার আয়োজন করে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন এবং মাইক্রো নিউট্রেন্ট ফোরাম। শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টিমান পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটবে। এর আগে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের ফলে বর্তমানে দেশের মোট প্যাকেটজাত ভোজ্যতেলের ৯৫ শতাংশ এবং ড্রামজাত ভোজ্যতেলের ৪১ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণের আওতায় এসেছে।
তিনি বলেন, অপুষ্টি দূরীকরণের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক করে আইন পাস, আয়োডিনের ঘাটতি পূরণে মন্ত্রিপরিষদ আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন অনুমোদন এবং জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতিতে খাদ্য সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়ও এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করেছে।
ইউএসএআইডির প্রধান পুষ্টি বিশেষজ্ঞ সন বেকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, গাম্বিয়া, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ভারতের বিহার রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ড. প্রেম কুমার ঐ সভায় বক্তব্য দেন।
শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, তারা পুষ্টি ঘাটতি দূরীকরণে জৈবসমৃদ্ধ ফসলের উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী। একই সঙ্গে জিংকসমৃদ্ধ চালের উৎপাদন ও ভোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
