ফেইসবুক-গুগল-ইউটিউব থেকে রাজস্ব আদায়ের নির্দেশনা

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২০, ০২:০৩ এএম

সার্চ ইঞ্জিন গুগল, আমাজন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক ও ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবের বিজ্ঞাপন থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য রাজস্ব আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ নিয়ে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আদালত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনসহ (বিটিআরসি) সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর উদ্দেশে পাঁচটি নির্দেশনা জারি করেছে। এগুলো হলো ১. অনতিবিলম্বে সকল ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানি যেমন গুগল-ফেইসবুক, ইউটিউব, আমাজনকে পরিশোধিত অর্থ থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সব ধরনের ট্যাক্স, ভ্যাট এবং অন্যান্য রাজস্ব আদায় করতে হবে; ২. এখন পর্যন্ত ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ থেকে পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে আনুপাতিক হারে বকেয়া রাজস্ব আদায় করতে হবে; ৩. রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর হলফনামা আকারে অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করবে; ৪. হাইকোর্টের এ রায়টি একটি চলমান আদেশ বা কন্টিনিউয়াস ম্যানডেমাস হিসেবে বলবৎ থাকবে এবং ৫. এ রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় আদালতে আবেদন করে প্রতিকার চাইতে পারবেন।

২০১৮ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে এ রিট আবেদনটি করা হয়। পরে একই বছরের ১২ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এক আদেশে গুগল, আমাজন, ফেইসবুক ও ইউটিউব থেকে অবিলম্বে ভ্যাট-ট্যাক্স আদায় করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায়ে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় হলো।

রুলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মাজেদুল কাদের, মোজাম্মেল হক ও সাজ্জাদুল ইসলাম। হুমায়ুন কবির পল্লব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পরও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ ধরনের রাজস্ব আদায়ে তেমন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ রায়ের ফলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিপুল রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। এছাড়া রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রায় বাস্তবায়নে কোনো গড়িমসি হলে যে কেউ আদালতে এসে প্রতিকার চাইতে পারবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত