পুঁজিবাজারে সদ্য তালিকাভুক্ত অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেডের শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির নেপথ্যে কোনো কারসাজি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। লেনদেনের শুরু থেকে গত ১১ কার্যদিবসে পাঁচগুণ দরবৃদ্ধির পর গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন তদন্তে দুই সদদ্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিল এসইসি।
তদন্ত কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ইনসাইডার ট্রেডিংসহ অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে কমিশন। এসইসির পরিচালক শেখ মাহবুবুর রহমানকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্য হলেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ওয়ারিসুল হাসান রিফাত। গতকাল এসইসির সহকারী পরিচালক নান্নু ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, একটানা দরবৃদ্ধির বিষয়টি এসইসির নজরে আসায় কোম্পানির বিরুদ্ধে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ২৫ অক্টোবর লেনদেনে শুরুর পর থেকেই অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেডের শেয়ারদর প্রতিদিনই সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির শেয়ারদর গত ১১ কার্যদিবসে বেড়েছে ৫০৭ শতাংশ। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০ টাকা থেকে ৬০ টাকা ৭০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। কারসাজির মাধ্যমে এই কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ানো হচ্ছে বলে ধারণা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইনসাইডার ট্রেডিংয়েরও অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য এসইসিও পেয়েছে। কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিংয়ে জড়িতদের তথ্য পেতে তদন্ত কমিটি গঠন করল এসইসি।
গত বুধবার কোম্পানিটি ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২ শতাংশ নগদ এবং ৮ শতাংশ বোনাস।
সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৮৭ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ২৫ পয়সা।
