বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম কবে খেলার হবে?

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪০ এএম

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। ১৯৫৪ সালে রাজধানীর ব্যস্ততম মতিঝিল ও গুলিস্তানে গড়ে ওঠা এই স্টেডিয়ামকে ঘিরেই চলে দেশের ক্রীড়া কর্মকা-। এই কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে নানা ক্রীড়া স্থাপনা। যদিও দিনের বেলায় হাজারো মানুষ, দোকান, ভ্রাম্যমাণ হকার, যত্রতত্র পার্কিং, রিকশা, ট্রাক, ভ্যানের ভিড়ে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটাই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দু। আর রাতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স চলে যায় ছিন্নমূল, মাদকাসক্ত, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীদের দখলে। নোংরা-আবর্জনা ছড়িয়ে থাকে সর্বত্র। ৬৬ বছরের পুরনো তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়াম (বর্তমান বিএনএস) যেন আর খেলার জন্য নেই।

অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে এখানে। স্টেডিয়ামের শত শত দোকান ভাড়া দিয়ে ফি বছর মোটা অঙ্কের রাজস্ব পায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। অথচ একে ক্রীড়াবান্ধব করে গড়ে তোলার কোনো আগ্রহই নেই তাদের। কমপ্লেক্সের পরিবেশ ফেরানোটা প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বরাবর। খোদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের কথারও যেন কোনো মূল্য নেই। প্রবেশ পথে কতিপয় লোক ইজারার নামে চালাচ্ছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। ভেতরে অবৈধ পার্কিং স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে অহর্নিশ। দোকানগুলোর সরঞ্জামে পায়ে হাঁটার পথগুলো দখল হয়ে রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ হকাররা যত্রতত্র ফেলছে আবর্জনা। অথচ সেগুলো চোখ এড়িয়ে যায় প্রশাসনের। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামটা মূলত ব্যবহার করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। এছাড়া বেশিরভাগ ক্রীড়া ফেডারেশনের অফিসগুলোও এই কমপ্লেক্সেই। তবে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয় বাফুফেকেই। বিশেষ করে কোনো আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের সময় এলেই তাদের পোহাতে নয় হাজারো ঝক্কি।

বাইরের মতো ভেতরের অবস্থাও করুণ। গ্যালারি এখন চেয়ারশূন্য। ২০১১ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য গ্যালারিতে বসানো হয়েছিল চেয়ার। ৯ বছরে যার একটিও আস্ত নেই। সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তবে নতুন করে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ক্রীড়া পরিষদ এই স্টেডিয়াম সংস্কারে ১০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে দু’বছর হতে চলল। কিন্তু শুরু হয়নি কাজ। মাঠের অবস্থাও তথৈবচ। কমপ্লেক্সের ভেতর-বাইরের পরিবেশ নিয়ে ফিফা-এএফসিসহ বিদেশি দলগুলোরও থাকে রাজ্যের অভিযোগ। তারপরও বিকল্প নেই বলে এই স্টেডিয়ামের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় বাফুফেকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ফিফা-এএফসির কাছ থেকে ম্যাচ আয়োজনে প্রতিবারই আনতে হয় অনুমতি। আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা টুর্নামেন্টের আগে ক্রীড়া পরিষদকে বলেকয়ে প্রতিবারই কিছু না কিছু সংস্কার করাতে হয়। পলেস্তারা খসে পড়া দেয়ালে পরে নতুন রঙের আঁচড়। অথচ এই ভেন্যুতেই বছরে একাধিকবার নানা উপলক্ষে অতিথি হয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের এই দুর্দশা মেনেই কোনো মতে নিজেদের খেলাগুলো আয়োজন করে আসছে বাফুফে। কিন্তু সেটা আর কতদিন? বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তো সারাক্ষণই ফিফা-এএফসি’র নিষেধাজ্ঞা নেমে আসার ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হারানোর ভয়ের কথা উল্লেখ করে সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিএনএস যখন তখন ফিফা-এএফসি বন্ধ করে দিতে পারে। সম্পর্কের খাতিরে এরা এখনো আমাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিচ্ছে। কিন্তু এটা নিয়ে একটা বিপদ থেকেই যাচ্ছে।’ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পরিবেশকে ক্রীড়াবান্ধব করা কঠিন বুঝতে পেরেই নতুন বিকল্প খুঁজছেন সালাউদ্দিন। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হওয়া সত্ত্বেও এদেশের ফুটবলের জন্য নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ (কমপ্লায়েন্স) স্টেডিয়াম। নিজস্ব একটা স্টেডিয়াম না থাকার দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘোচাতে এবার তৎপর হয়েছেন টানা চারবারের বাফুফে সভাপতি, ‘নির্বাচনের পর আমি ও আমার কমিটি আলাপ করেছি, আমরা এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে, সরকারের কাছে যাব একটা ফিফা কমপ্লায়েন্স স্টেডিয়ামের দাবি নিয়ে। এর মধ্যেই আমি দু’চার জায়গায় আলাপ করেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে এক মাসের মধ্যে আমরা যাব।’

রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে গড়ে উঠছে ৬০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে ফুটবলের একটা পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামের দাবি অমূলক নয়। সেটা হলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পরিবেশ নিয়ে অন্তত ফুটবলের আর ভাবতে হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত