সাকিব আল হাসান চমকে দিয়েছেন। অভ্যাস। এটা নতুন কিছু নয়। তার সবকিছুতে চমক। তাই বলে আমেরিকা থেকে ফিরে তেমন কোনো ফিটনেস ট্রেনিং না করেই ৪ দিনের মাথায় বিপ টেস্টে ১৩.৭ স্কোর করে ফেলবেন! এখানেও ১ নম্বর! অবিশ্বাস্য! গতকাল সাকিব যে কীর্তি করেছেন তাতে ছাপিয়ে গেছেন গত দুদিনে ১০০-এর বেশি ক্রিকেটারের বিপ টেস্টের দেওয়া স্কোরকে। এ যেন ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফিরেই সাকিবের অনুচ্চারিত ঘোষণা, ‘আমি প্রস্তুত’।
ক্রিকেট যখন ছাড়বেন তখন নিশ্চিতভাবে বিশ্ব ইতিহাসের অল রাউন্ডারের পাতায় পাতায় তার নাম ছড়িয়ে থাকবে। তালিকার বেশিরভাগে থাকবে ওপরের দিকে। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো ১ নম্বরে। বহু গ্রেটকে পেছনে ফেলেছেন। আরও ফেলবেন অবশ্যই সব ঠিক থাকলে। ৩৩ বছর বয়সী বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা অল রাউন্ডার বঙ্গবন্ধু কাপ শুরু করার আগের বাধ্যতামূলক বিপ টেস্টে যা করলেন তাতে তার মনোজগতের গভীরতার প্রচণ্ড ছাপ প্রকাশিত। নিজে যতই বলুন, এক বছর ক্রিকেট খেলেন না, গেল এক মাসে ফিটনেসে পিছিয়ে গেছেন, কিন্তু তার কীর্তি বলছে ব্যক্তিজীবনকে পেশাদার জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে ও আলাদা করে সাকিবের অবস্থান একেবারে ভিন্ন এক উচ্চতায়।
সাকিব দেশে ফিরেছেন শুক্রবার গভীর রাতে। পরদিন দুপুরের আগে একটি জনসমাগমে উপস্থিত হয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠের সাকিব আসল। তার বিপ টেস্ট হওয়ার কথা ছিল সোমবার। দুই দিনের এই টেস্টের জন্য ডাকা খেলোয়াড়দের সবার ওপরে ছিল তার নাম। কিন্তু সেদিন আরও যারা টেস্টে এসেছিলেন তাদের বেশিরভাগের করোনা টেস্ট করা ছিল না বলে সাকিবের জন্য বুধবার নির্ধারিত হয়।
কে জানত এই বুধবারের সকালটা এমন চমক নিয়ে অপেক্ষায়! ফিজিও-ট্রেনাররাও সাকিবকে একটু সময় দিতে চেয়েছিলেন। পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। সেই সময়ের ফল কী মধুর!
নভেম্বরের শেষে শুরু হতে যাওয়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ড্রাফটে জায়গা পেতে ১১ স্কোর করতেই হবে টেস্টে। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সাকিব সবাইকে ছাড়িয়ে ১৩.৭ করতেই সবার চক্ষু চড়কগাছ।
৯ ও ১০ তারিখ ছিল বিপ টেস্টের দিনক্ষণ। এই দুদিনে সবচেয়ে বেশি স্কোর তুলেছিলেন কুমিল্লার ফাস্ট বোলার মেহেদী হাসান রানা। ১৩.৬। সাকিবের মাথায় কি তা ছিল? সাকিব অবশ্য এসব প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করেন না বলেই চালু আছে। সাকিবের চেষ্টা সাকিব করেছেন। আর তার টেস্ট নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন হাই পারফরম্যান্স ইউনিট ও বিসিবির হেড অব ফিজিক্যাল পারফরম্যান্স নিক লি। পেশাদার বলে সাকিবের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বাস গোপন করেই সন্তুষ্ট চিত্তে যা বলার বলে দিলেন নিক লি, ‘সবকিছু খুব ঠিকঠাক ছিল। সাকিব তো ভালো করেছে। একদম ঠিক।’
সাকিব ছাড়াও ১৩ আছে আর কজনার। মেহেদীকে টপকে সাকিব তো সেরাই। মেহেদীর পেছনে আছেন বাঁহাতি তরুণ স্পিনার নিহাদুজ্জামন (১৩.৪), রবিউল ইসলাম ও পিনাক ঘোষ সমান ১৩। দ্বিতীয় দিনে মেহেদীর ১৩.৬ এর কাছাকাছি স্কোর হয়েছে রায়হান উদ্দিনের। ১৩.২।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন পুরো নিষেধাজ্ঞার সময় পেশাদার অ্যাথলিট হিসেবে সাকিব সবসময় নিজের যতœ নিয়েছেন। ফিট থেকেছেন। যদিও প্রকাশ্যে তা আসেনি। ১৩.৭ স্কোর মানে তো ফিটনেসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।
তাহলে? আবার ব্যাট-বল হাতে প্রাণ ভুলানো পারফরম্যান্স দেখার জন্য সাকিবের দিক থেকে চোখ ফেরানোর উপায় কি আর থাকল!
