ঢাকা মহানগরীতে ২ লাখ প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পে বড় অংকের সহায়তা করেছিল জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। ওই সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থ কম খরচ হয়েছিল। এবার ওই অব্যয়িত অর্থে নতুন করে আরও ১ কোটি ২ লাখ প্রি-পেইড মিটার বসাতে চায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল)। এত ব্যয় হবে ২৫৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সভার কার্যপত্র অনুসারে, ‘প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটি দ্বিতীয় সংশোধনীর জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় জাইকার ঋণে ২ লাখ প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের লক্ষ্যে মূল প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ মেয়াদে বাস্তবায়ন হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭১২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২৩৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, জাইকার ঋণ ৪৫৩ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব ২২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
পিইসি সভার কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি প্রথম সংশোধনের নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় ১ বছর আগেই ২ লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। প্রি-পেইড মিটারের প্রতি গ্রাহকের আগ্রহ এবং জাতীয় এ সম্পদের অপচয়রোধসহ এর যথাযথ ব্যবহারের নিমিত্ত জাইকার অর্থায়নে অব্যয়িত অর্থের আওতায় অতিরিক্ত ১ লাখ ২০ হাজার প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাবে আগামী ২ বছরে এসব মিটার স্থাপনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। প্রস্তাবনায় কয়েকটি অঙ্গের ব্যয় হ্রাস-বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ১ লাখ ২০ লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন, প্রকল্প এলাকার পরিবর্তন এবং অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স জনবল কাঠামোর পরিবর্তন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শিল্প ও শক্তি বিভাগের প্রধান ড. সাঈদ হাসান শিকদার বলেন, ২ লাখ প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পরামর্শক সেবা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় সংশোধনীতে ১ লাখ ২০ হাজার প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে অতিরিক্ত ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরামর্শকের সংখ্যাও কম। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যৌক্তিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ করে ডিপিপি পুনর্গছর করার কথা বলা হয়েছে।
শিল্প ও শক্তি বিভাগের প্রধান আরও বলেন, দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাবে অতিরিক্ত ৭টি থানাসহ ৪১টি থানা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাবে প্রকল্প এলাকার তালিকা পর্যালোচনা করে মনে হচ্ছে এটি পূর্ণ তালিকা নয়। এক্ষেত্রে প্রথম সংশোধিত ও দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাবে প্রকল্প এলাকার সংখ্যাসহ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ তালিকা সংশোধিত ডিপিপিতে যুক্ত করতে হবে।
সভায় প্রকল্পের আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ২ লাখ প্রি-পেইড মিটার প্রথম সংশোধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার ১ বছর আগেই কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। এছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে প্রধান প্রধান কাজের একটি সম্ভাব্য সময়ানুগ কর্মপরিকল্পনা সভায় উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্প পরিচালক জানান গ্রাহককে প্রতি মাসে ১০০ টাকা হারে ১৩ বছরের মধ্যে মিটারের মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
শিল্প ও শক্তি প্রধান সভায় আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্পের আওতায় সাইট জরিপ এবং মিটার ইনস্টলেশন বাবদ ২ লাখ প্রি-পেইড মিটারের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। কিন্তু অতিরিক্ত ১ লাখ ২০ হাজার প্রি-পেইড মিটারের জন্য ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আগের তুলনায় এ ব্যয় অধিক বলে মনে হয়। এ বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যৌক্তিক পর্যায়ে ব্যয় নির্ধারণ করা যেতে পারে। এছাড়া সাইট জরিপের মাধ্যমে আইনসংগত গ্রাহককে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সভায় প্রকল্প পরিচালক বলেন, ১৫টি যানবাহনের মধ্যে ১০টি মোটরসাইকেল ক্রয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫টি যানবাহন (জিপ ১টি, ডাবলকেবিন পিকআপ ৪টি) ইতিমধ্যেই কেনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সভাপতি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত যানবাহন কেনার বিষয়ে অর্থ বিভাগের একটি স্থগিতাদেশ রয়েছে। এ কারণে স্থগিতাদেশ আমলে নিয়ে সরকারি বিধিবিধানের আলোকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
