অডিট জালিয়াতি বন্ধ করা গেলে কর আদায় বহুলাংশে বাড়বে। শুধু তাই নয়, পুরো আর্থিক খাতে আসবে। তাই অডিটরদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেমের (ডিভিএস) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এনবিআর ও দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) যৌথভাবে ডিভিএস সিস্টেম তৈরি করেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, হিসাববিদরা দেশের হিসাব পেশার কর্ণধার। দেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা ব্যাপক। হিসাববিদের প্রতি পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম রাজস্ব আদায় বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। অডিট জালিয়াতি রোধেও সহায়তা করবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ডিভিএস আর্থিক খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এতে জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে। রাজস্ব আদায়ে ডিভিএস সিস্টেম ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। যদি রাজস্ব আদায় বাড়ানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে করপোরেট কর কমানোর চিন্তাভাবনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, আরজেএসসিতে নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা ১ লাখ ৭৬ হাজার। এর মধ্যে ৭৮ হাজার কোম্পানি টিআইএন রয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি কোম্পানি আয়কর রিটার্ন দাখিল করে না। কিছু কোম্পানি নামমাত্র অডিট করে, অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া অডিট করে পার পাচ্ছে।
স্বাগত বক্তব্যে আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ ফারুক বলেন, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, আরজেএসসি, বিএসইসি, আরডিআরএ ডিভিএস সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্টের সঠিকতা যাচাই করতে পারবে। এতে রাজস্ব আদায় অনেকাংশে বাড়বে ও কর ফাঁকির প্রবণতা কমে আসবে। যা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রসঙ্গত, আইসিএবির নিবন্ধিত হিসাববিদরা প্রতিটি নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদনসহ যাবতীয় তথ্য ডিভিএস সফটওয়্যারে আপলোড করবে। এনবিআর এ সিস্টেম থেকে রিটার্নের সঙ্গে জমা দেওয়া নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদন সঠিক কি না, তা যাচাই করতে পারবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্টে ও তথ্য আইসিএবির ডেটাবেজে পাওয়া যাবে না এখন থেকে সে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হবে।
