লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আবু ইউনুস মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে (৫০) পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হলেও ওই অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কমিটির প্রধান লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিন জেলা প্রশাসক আবু জাফরের হাতে ওই প্রতিবেদনের অনুলিপি তুলে দেন।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন গঠিত এ তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও কমিটি নয় কার্যদিবস সময় নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিল। তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি এ সময় সাতটি সভায় মিলিত হয়। কমিটির সদস্যরা ৫০ জন সাক্ষীর প্রকাশ্যে ও গোপনে মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করেছে। ছয়টি অধ্যায় ও ৪২টি অনুচ্ছেদ সংবলিত ৭৩ পাতা সংযুক্তি সহকারে ছয় পাতার প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিটি ওই প্রতিবেদনে ঘটনার প্রারম্ভিকা, বিবরণ, অধিকতর তথ্যানুসন্ধান এবং গভীর পর্যবেক্ষণসহ সুপারিশ প্রদান করেছে বলে কমিটির প্রধান লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। প্রতিবেদনের অনুলিপি জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দেওয়ার সময় কমিটির অন্য দুই সদস্য লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম এবং লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফিন্সের উপপরিচালক সহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর প্রতিবেদন গ্রহণের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিবেদনের কপি সচিবালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে। পরে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে (বুড়িমারীতে) কোরআন অবমাননার কোনো বিষয় ঘটেনি। এটা ছিল স্রেফ গুজব। এ ব্যাপারে যেহেতু থানায় ফৌজদারি মামলা রয়েছে, সেহেতু মামলা তদন্তের স্বার্থে তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে বেশি কিছু জানানো সম্ভব নয়।’
তদন্ত কমিটির প্রধান ও লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিন বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনে আমরা ঘটনা সংশ্লিষ্ট ১৮-২০টি ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করেছি। সেসব ভিডিও ক্লিপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো আমরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি।’
গত ২৯ অক্টোবর পাটগ্রামের বুড়িমারী কেন্দ্রীয় বাজার জামে মসজিদে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে জুয়েল ও তার সঙ্গে থাকা সুলতান রুবায়াত সুমনকে পিটুনি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আটকে রাখে স্থানীয় একদল মানুষ। পরে সন্ধ্যায় ইউপি ভবন ভেঙে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে স্থানীয়রা। পুলিশ জুয়েলের সঙ্গী রুবায়াত সুমনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
