নানা রকমের ফোবিয়া

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫৯ পিএম

ফোবিয়া হলো কোনো বিষয় বা পরিস্থিতি সম্পর্কে অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ভয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফোবিয়ায় বিপন্নতা বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। যেমন অ্যাগোরাফোবিয়াতে ব্যক্তি কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে আছেন এমন ভয় পান। এমন হলে তিনি নিজের শারীরিক ক্ষতি করতে পারেন।

লক্ষণ

ভয়ংকর বস্তু বা পরিস্থিতির সংস্পর্শে এলে, কখনো নিছক ভীতিকর বস্তুর কথা চিন্তা করলেও ফোবিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝবেন আপনি ফোবিয়ায় আক্রান্ত

শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি, মৃত্যুর ভয়, বমি বমি ভাব, যে জিনিসে ভয় তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা ও অবাস্তব অনুভূতি। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভয়ের কারণে অ্যাংজাইটি অ্যাটাক হতে পারে।

ফোবিয়ার ধরন

ফোবিয়াকে সাধারণত তিনটি ধরনে ভাগ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে

অ্যাগারোফোবিয়া

এ ধরনের ফোবিয়ায় কোনো স্থানে আটকে পড়ার মতো ভয় কাজ করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই এই ফোবিয়া থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। কখনো কখনো এই ফোবিয়া ব্যক্তিকে এত বেশি প্রভাবিত করে যে নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে থাকার ভয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে হয়।

স্পেসিফিক ফোবিয়া

এ ধরনের ফোবিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বা প্রাণী যেমন সাপ, প্রজাপতি, মথ ইত্যাদি দেখলে আতঙ্ক চলে আসে। এ ধরনের ফোবিয়ার মধ্যেও আবার চারটি ভাগ আছে। স্থানগত, প্রাণিগত, চিকিৎসাগত ও পরিবেশগত। যেমন অনেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রাণী (মাকড়সা, কুকুর, ইঁদুর, বিড়াল বা পাখি), রক্ত বা চিকিৎসকের কাছে যেতে, ইনজেকশন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বিদ্যুৎ চমকানো, বন্যা, ঝড়, হারিকেন ও টর্নেডো), সেতু বা ভবনের উচ্চতা, আকাশে ওড়া, বাড়ি ছেড়ে যাওয়া অথবা গাড়ি চালানো ইত্যাদি বিষয়ে অতিরিক্ত ভয় পান। এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটিতে ব্যক্তি ফোবিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন অর্থাৎ এই বিষয়গুলো সামনে এলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তখন তার মধ্যে ফোবিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 

সোশ্যাল ফোবিয়া

সামাজিক যেকোনো স্থানকে প্রচণ্ড ভয় পাওয়া হতে পারে সোশ্যাল ফোবিয়ার লক্ষণ। কিছু ক্ষেত্রে এ ফোবিয়া হতে পারে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় যেমন সবার সামনে মাইকে কথা বলা। আবার অনেকেই আছেন তারা মানুষের সামনে অপমানিত হওয়ার ভয়ে কোনো ধরনের অভিনয় বা পারফর্ম করতে অতিরিক্ত সংকোচে ভোগেন।

চিকিৎসা

যদি কোনো বস্তু বা পরিস্থিতি ফোবিয়া বা ভয়ের উদ্রেক করছে এমন বুঝতে পারলে শুরুতেই কাছের মানুষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এ ছাড়া যোগব্যায়াম, ধ্যান ও শ্বাসক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতির সাহায্যে দেহকে শান্ত রাখতে হবে। যদি ফোবিয়া ঘন ঘন দেখা যায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কাউন্সেলিং ও থেরাপির মাধ্যমে ভয়ের উৎসের মুখোমুখি হয়ে চিন্তাপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে চিকিৎসক সহায়তা করবেন। এ ছাড়া কগনিটিভ বিহেভিয়রাল থেরাপি, ফোবিয়ায় আক্রান্ত অন্য মানুষদের সঙ্গে গ্রুপ থেরাপিতেও অনেক সময় উপকার মেলে। এগুলোতে সমাধান না মিললে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খেতে হবে।

তথ্যসূত্র : ভেরি ওয়েল মাইন্ড

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত