ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ। গতকাল শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে স্থায়ী কমিটির নেতারা এই নির্বাচনকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কারণও জানতে চান। গতকাল বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা দেশ রূপান্তরকে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জানান। ওই নেতা বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় আরও দুটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেসব নির্বাচনকে বিএনপি স্বাভাবিকভাবে নিলেও ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও করা হয়নি। দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে চাপ দিয়ে সেখানে নিয়ে শোডাউন করা হয়েছে। পুরো দলকে ওই আসনের নির্বাচনমুখী করা হয়েছে। এতে অতি উৎসাহী হয়ে নির্বাচনের দিন বেশকিছু নেতাকর্মী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মশাল মিছিল করেছে। ওই নির্বাচনকে বেশি মাত্রায় গুরুত্ব দেওয়ার কারণে দলের এসব নেতা বিক্ষিপ্তভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেছে। যা কোনোভাবেই দলীয় কর্মসূচি ছিল না।
বৈঠকে আরেক নেতা বলেন, অতি উৎসাহী ওইসব নেতার কারণেই রাজধানীতে গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপিকে জড়িয়ে বিভিন্ন মহল গুজব ছড়াচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে একাধিক মামলায় দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ তৃণমূলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা হয়েছে। তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াতেও বিঘœ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ওই নেতা।
তিনি জানান, স্থায়ী কমিটির কয়েক নেতা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চানÑ উপনির্বাচনকে নিয়ে বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল কি না। এ সময়ে মহাসচিব কোনো কর্মসূচি ছিল না বলে জানান। এ সময়ে তারা জানতে চান তাহলে নেতাকর্মীরা কার ইন্ধনে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করেছেন? দলের থেকে ব্যক্তি ইস্যুতে কেন বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে তাও জানতে চান তারা। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো সুস্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে একজন সদস্য জানান, বৈঠকে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
