খুলনায় থমকে আছে নভোথিয়েটার স্থাপন

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৪ এএম

ডিজিটাল সার্ভে রিপোর্ট পাঠানো, জমি অধিগ্রহণে প্রশাসনিক অনুমোদন ও কাজের প্রাকল্প মূল্য নির্ধারণের পরও থমকে গেছে খুলনায় নভোথিয়েটার স্থাপনের প্রক্রিয়া। নগরীর জিরোপয়েন্টের কাছে কৃষ্ণনগর মৌজায় ১০ একর জমিতে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যে উদ্দেশ্য নিয়ে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল তা বাস্তবায়নে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী কোনো নির্দেশ না আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য নভোবিজ্ঞান, সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়াসহ বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে খুলনায় নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নভোথিয়েটারটি হবে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় নভোথিয়েটারের আদলে। এজন্য ২০১২ সাল থেকেই তৎপরতা শুরু করে খুলনা জেলা প্রশাসন ও বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষ। প্রথম দফায় ২০১৩ সালের ১১ জুন মোংলা পোর্ট স্কুলের পাশে বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন, ২১নং ওয়ার্ডে শিল্প ব্যাংকের পেছনে এবং ২০নং ওয়ার্ডে আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। কিন্তু এসব জমি পাওয়া কঠিন হওয়ায় পরবর্তীকালে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে অন্য স্থানে জমি দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর সার্বিক বিষয় নিয়ে ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউজে কেসিসি ও জেলা প্রশাসন ও সমন্বয় সভায় মুজগুন্নি মৌজার পর্যটন করপোরেশনের ৫ দশমিক ৯৬ একর জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু ওই জমি পর্যটন কর্তৃপক্ষের হওয়ায় বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়ে। তারা নগরীর জিরোপয়েন্ট ও পেট্রল পাম্পের মধ্যবর্তী কৃষ্ণনগর মৌজার ১০ একর জায়গা পছন্দ করেন। ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর পরিদর্শন প্রতিবেদনে ওই স্থানেই নভোথিয়েটার স্থাপনে সম্মতি প্রদান করা হয়।

খুলনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর ওই ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া যায়। ওই মাসেরই ২৮ নভেম্বর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। কিন্তু চিঠিতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব না থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাগজপত্র সংযুক্ত ও বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এরপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে খুলনায় আর কোনো নির্দেশনা আসেনি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সমীর কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পের ডিজিটাল সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ও কাজের প্রাক্কলন মূল্য ৩৪৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ঢাকার গণপূর্ত মনিটরিং বিভাগে পাঠানো হয়। কিন্তু পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত