যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেনের জয় স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ থেকে তিনি সরে আসেননি। এখনো তিনি বলছেন, ভোট জালিয়াতির কারণেই হেরে গেছেন তিনি।
গতকাল রবিবার বাইডেনের নাম উল্লেখ না করে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ভোট জালিয়াতির কারণে নির্বাচনে তিনি (বাইডেন) জিতেছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে ভোট গণনায় যেতে দেওয়া হয়নি। চরম বামপন্থি মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃত্ববাদী কায়দায় ভোট গণনার কাজ তদারকি করেছে। এদের দুর্নাম রয়েছে, এসব কাজ করার জন্য তারা মোটেই উপযুক্ত নয়। তারা টেক্সাসে কাজ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি (যেখানে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি), ভুয়া ও নীরব গণমাধ্যম এবং আরও অনেক কিছু এর সঙ্গে জড়িত ছিল।
গতকাল ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের আগেই তার সুর নরমের আভাস মিলেছিল। ভোটের দিন থেকেই কারচুপির অভিযোগ এনে নিজেকে জয়ী দাবি করা ট্রাম্প স্থানীয় সময় গত শুক্রবার করোনাভাইরাসের টিকা অনুমোদন বিষয়ে রোজ গার্ডেনে দেওয়া এক বক্তৃতায় আগামীতে কোন প্রশাসন কাজ করবে তা নিয়ে প্রকাশ করেন সংশয়। এর আগে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছিলেন, এবারও ক্ষমতা হস্তান্তর হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের হাতেই। তবে গত শুক্রবার ট্রাম্প কিছুটা হেঁয়ালি করেই যেন বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন তার সময় শেষ হয়ে এসেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স, সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশ জুড়ে ফের লকডাউন ইস্যুতে বলতে গিয়ে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, লকডাউন দেওয়ার কোনো ইচ্ছে তার প্রশাসনের নেই। তিনি বলেন, তার প্রশাসন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কখনোই আবার লকডাউন দেবে না। তিনি হেঁয়ালির সুরেই বলেন, কে জানে কোন প্রশাসন কাজ করবে। আমার ধারণা সময় সব বলে দেবে।
জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই ট্রাম্প এ বক্তব্য দেন। বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি। জো বাইডেন এ পর্যন্ত ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন। আর ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি ইলেকটোরাল ভোট। যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। ট্রাম্প নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভোট গণনার সময় নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ভোট গণনায় কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সফটওয়্যার বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির খবরও কোথাও পাওয়া যায়নি।
এদিকে খোদ রিপাবলিকান পার্টিরই একাংশ এখন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দিকে ঝুঁকছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন।
এছাড়া দেশটির নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এবার ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সুরক্ষিত নির্বাচন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলেছেন, ভোটিং পদ্ধতিতে কোনো গরমিল, ভোট সরিয়ে ফেলা বা ভোট বদলের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, কোনো ধরনের আপসরফাও হয়নি। গত শুক্রবার মিশিগানের বিচারকও রিপাবলিকানদের ভোট কারচুপির আরেকটি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এসব কারণেই হয়তো ট্রাম্প নিজের সুর নরম করতে শুরু করেছেন। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন ট্রাম্প। এখন মুখে যাই বলেন না কেন, তিনি পরাজিত হয়েছেন সেটা ভালো করেই জানেন। ট্রাম্প আসলে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও অংশ নিতে চান বলেই হারের পরে দলকে সংগঠিত রাখার কৌশল হিসেবেই তিনি বাইডেনকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে এমন টালবাহানা করেছেন।
