পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, করোনাকালে মানবিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পুলিশ যেভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রতি সেবার হাত বাড়িয়েছে, যেভাবে সহযোগিতা দিয়েছে, তা দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। মানুষও অকুণ্ঠচিত্তে এর প্রতিদান দিয়েছে। মানুষ তাদের মনের মণিকোঠায় পুলিশকে স্থান দিয়েছে। জনগণের প্রতি পুলিশের এ ধরনের মানবিক আচরণ ও সেবা অব্যাহত রাখতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত কনস্টেবল, নায়েক ও এএসআইদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত আইজিপি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, এসবিপ্রধান মীর শহীদুল ইসলাম, সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশপ্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুকূল্যে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ পুলিশ অনেক দূর এগিয়েছে। আমাদের যেতে হবে আরও বহুদূর। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ সড়ক-মহাসড়ক, শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। বিদেশিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে, ব্যবসা করছে, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে।’
ডিএমপিকে পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিট ও ‘ফেস অব পুলিশ’ আখ্যায়িত করে আইজিপি বলেন, ডিএমপিতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা ও আচরণের ওপর পুলিশের ভাবমূর্তি অনেকাংশে নির্ভর করে। পুলিশের কোনো সদস্য ড্রাগ গ্রহণ করবে না, ড্রাগের ব্যবসা করবে না, ড্রাগ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স পুনর্ব্যক্ত করে আইজিপি বলেন, পুলিশে কোনোভাবেই দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। যারা দুর্নীতি করে বড়লোক হতে চায়, তাদের জন্য পুলিশের চাকরি নয়। সেবাপ্রার্থী বা জনগণকে কোনো প্রকার হয়রানি বা নির্যাতন করা যাবে না। মানুষকে ভালোবেসে হাসিমুখে সেবা দিতে হবে।
আইজিপি বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে যেতে চাই। সারা দেশকে ৬ হাজার ৯১২টি বিটে ভাগ করে বিট পুলিশিং চালু করা হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিটের আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশের নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা হয়েছে।’ পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পরিণত করা হচ্ছে। ঢাকায় আরেকটি পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে পড়াশোনার ব্যবস্থা থাকবে। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে পুলিশে শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কল্যাণের সঙ্গে শৃঙ্খলাকে মেশানো যাবে না। বক্তব্যে আইজিপি তার পাঁচটি মূল লক্ষ্য বিশদভাবে তুলে ধরে এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে নির্দেশ দেন। আইজিপি তার বক্তব্যের শুরুতে করোনাকালে জনগণের সেবায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
