যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত ১ কোটি ১৩ লাখ ছাড়াল

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ০৭:০৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ চলছে। এরই মধ্যে দেশটিতে কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানায় ওয়ার্ল্ডোমিটার। করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে আড়াই লাখেরও বেশি। রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ আরও দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। গত ৮ নভেম্বর দেশটিতে শনাক্ত সংখ্যা এক কোটি পার হয়েছিল। এরপর মাত্র আট দিনে রোগী বেড়েছে আরও ১০ লাখ। মহামারী শুরুর পর সবচেয়ে কম সময়ে দেশটিতে এত বেশি করোনা রোগী শনাক্তের ঘটনা এটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত সংখ্যা ৯০ লাখ থেকে এক কোটিতে পৌঁছাতে ১০ দিন সময় লেগেছিল। আর তারও আগে ৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখে পৌঁছাতে লেগেছিল ১৬ দিন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় গতকাল সোমবার রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭২ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ওইদিন পর্যন্ত মৃত্যু হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৪ জনের। গতকাল এক দিনে নতুন করে ৫ হাজার ৬৯০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়; মৃত্যু হয় ৩৩ জনের। গত রবিবার ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ওইদিন মৃত্যু হয় ৬৪৮ জনের। এর আগের দিন (শনিবার) দেশটিতে করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৬৫ জন। ওইদিন করোনায় মৃত্যু হয় ১ হাজার ২৫৭ জনের। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত করোনায় আরোগ্য লাভ করেন মোট ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার ৮৩৭ জন।

অন্যদিকে রয়টার্সের টালি বলছে, বিশ্বে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে টানা ১১ দিন ধরে দৈনিক লাখের ওপরে রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সবশেষ সাত দিনের গড় থেকে দেখা যায়, এই সময়ে দেশটিতে প্রতিদিন এক লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে আর মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ১২০ জনের। বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে এ সংখ্যা অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাস রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে জনবহুল এই দুই অঙ্গরাজ্যে মোট আক্রান্ত সংখ্যা ২১ লাখ। এ সংখ্যা দেশটির মোট আক্রান্তের ১৯ শতাংশ।

একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে কভিড-১৯ জনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাগুলো সক্ষমতার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে মহামারী নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শীর্ষ উপদেষ্টা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপসহ মাস্ক পরা ও অন্যান্য বিধিনিষেধ জারি করে স্থানীয় সরকার। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত