নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় গত ৭০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ৭৬৮টি নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ১৩৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ২০২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তার পর থেকে গতকালই প্রথমবারের মতো ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত দুই হাজারের ওপরে উঠেছে। এদিন শনাক্তের হারও ছিল ৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে টানা দুদিন ২১ জন করে রোগীর মৃত্যু হলো। এদিন মৃতদের মধ্যে ১৩ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ১৪ জনের বয়স ছিল ষাটোর্ধ্ব।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৫৪তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে ১১৬টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৬ হাজার ২১৮টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৭৬৮টি। এসব পরীক্ষায় ২ হাজার ১৩৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৬০৪ রোগী সুস্থ হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬২টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬ হাজার ২১৫ এবং সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ১৪৬ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৩ ও সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৮২ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৫ ও নারী ৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩, চট্টগ্রামে ৪, রংপুরে ৩ এবং রাজশাহীতে ১ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৪, ৫১-৬০ বছরের ১ এবং ৪১-৫০ বছরের ছিল ৬ জন। ২০ জন মারা গেছে হাসপাতালে এবং ১ জন বাড়িতে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৭৮৩ ও নারী ১ হাজার ৪৩২ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯৬ ও নারী ২৩ দশমিক ০৪ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬১ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ২১৮, খুলনায় ৪৮২, রাজশাহীতে ৩৭৯, রংপুরে ২৮১, সিলেটে ২৫৭, বরিশালে ২০৭ ও ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৩০ জন মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৬ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৮৪৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ১৭০ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ২৪৪ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে ৫ হাজার ৯৩৮টি কল এসেছে। সারা দেশে কভিড হাসপাতালগুলোতে ১১ হাজার ৪৫৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৬৪৪টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৫৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি ছিল ২৭৬টি।
