অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি)। মিউচুয়াল ফান্ডগুলো হলোসিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াাল ফান্ড, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। গতকাল এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এসইসি।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন এসইসির উপ-পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক মো. নানু ভূইয়া। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন প্রসঙ্গে এসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, লেনদেনে শৃঙ্খলা আনতে ও অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে বীমা খাতের কিছু কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ার দর খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খুব শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি বীমা খাতের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পর মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ার দরবৃদ্ধি পায়। অবশ্য গত চার মাসে পুঁজিবাজার চাঙ্গা থাকায় অধিকাংশ মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ মূল্য ও আয় বাড়তে দেখা গেছে। চলতি জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি আয় (ইপিইউ) আগের বছরের তুলনায় অনেক বাড়তে দেখা গেছে। কমিশনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এমন পরিস্থিতিতে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বাড়ায় দরবৃদ্ধি পেতে থাকে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, যেসব মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন ও অস্বাভাবিক দর খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, সেসব ফান্ডের দর এক মাসেরও কম সময়ে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
