১৮ নভেম্বর ২০০০।
২০ বছর আগের এই দিনেই দিল্লি থেকে ডন ব্রাডম্যান হওয়ার অভিযান শুরু করেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। না, ডনকে ছাপিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রা? প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। এরপরের ১৩ মাসে জিম্বাবুয়ের হয়ে ১৩৩.২৭ গড়ে ১৪৬৬ রান করেন। পাঁচ সেঞ্চুরি আর ছয় হাফ সেঞ্চুরির আশ্চর্য ব্যাটিং র্যাংকিংয়েও প্রভাব ফেলে। ২০০১-এ টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। পরের বছর (২০০২) চার ইনিংসে মাত্র ২০ রান করলে লোকে জেনে যায়, ‘ব্রাডম্যানোচিত’ ফর্ম থেকে তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছেন।
অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের পরাবাস্তব অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল ফিরোজশাহ কোটলা থেকে। দিল্লি টেস্টে ১৮৩* ও ৭০ করেন। নাগপুরের দ্বিতীয় টেস্টে খেলেন ৫৫ ও ২৩৩* রানের ইনিংস। ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডে একটি টেস্ট খেলে জিম্বাবুয়ে। সেই টেস্টে ফ্লাওয়ার করেন ৭৯ রান। ম্যাচ ড্র হওয়ায় ওয়েলিংটনের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ব্যাট করার সুযোগ পাননি। ২০০১ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ে সফর করে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট হয়েছিল বুলাওয়েতে। ইনিংস ও ৩২ রানে জিতেছিল স্বাগতিকরা। এক ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলেন ফ্লাওয়ার। ৭৩ করে বাঁ-হাতি পেসার মঞ্জুরুল ইসলামের বলে আউট হন। এরপর হারারে টেস্টে ২৩ রানের ব্যর্থতা। জাভেদ ওমর বেলিমের থ্রোতে রান আউট হয়ে যান ফ্লাওয়ার। ৮ উইকেটে ম্যাচ জেতায় দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি।
এরপরই জিম্বাবুয়ে সফর করে ভারত। দুই টেস্টের সিরিজ খেলে সৌরভ গাঙ্গুলির দল। প্রথম টেস্ট হয়েছিল বুলাওয়েতে। জহির খান, আশিষ নেহরা এবং হরভজন সিংয়ের দাপটে ১৭৩ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ফ্লাওয়ার হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৮৩ করে লড়াই জরি রাখেন। যদিও টেস্ট বাঁচাতে পারেননি। ভারত জেতে ৮ উইকেটে। হিথ স্ট্রিক আর ফ্লাওয়ার ভাইদের কল্যাণে অবশ্য হারারেতে দ্বিতীয় টেস্ট জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ৪৫ করে হারভজনের বলে আউট হন। জেতার জন্য ১৫৭ রানের টার্গেটে তিনি ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও অ্যান্ডি’র অবিশ্বাস্য ফর্ম অব্যাহত ছিল। প্রথম টেস্টে ১৪২ ও ১৯৯ঁ। শন পোলকের দলের বিপক্ষে একাই লড়েছিলেন। দুই ইনিংসে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ৬৭৭ রান। এর মধ্যে ৩৪১ রানই অ্যান্ডির। যদিও হার বাঁচাতে পারেননি। বুলাওয়ের দ্বিতীয় টেস্টে তিনি করেন ৬৭। ড্র হওয়া টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যান্ডি করেন অপরাজিত ১৪।
২০০১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সফরে নিজের অলৌকিক ফর্মের সমাপ্তি টানেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ঢাকা টেস্টে ২৮ করে এনামুল হকের বলে বোল্ড হন। ২০০১’র ১৫ নভেম্বর শুরু হয় চট্টগ্রাম টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ১১৪ করে অপরাজিত ছিলেন অ্যান্ডি। জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে ৫৪২ করে ইনিংস ঘোষণা করে। ২৫১ রানে অলআউট বাংলাদেশ ফলোঅনে করে ৩০১-এ থেমেছিল। জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন পড়ে ১১ রান। ২ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছায় সফরকারীরা। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে আর ব্যাট করতে হয়নি।
২০০০ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ব্রাডম্যানের আত্মা ভর করেছিল অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের ওপর। তার সাবেক সতীর্থ ও জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল বলেছিলেন, ‘বছরটাই নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি। সত্যিকার মানসিক শক্তির বিচ্ছুরণ হয়েছিল তার ব্যাটিংয়ে। ঘরে-বাইরে ফ্লাওয়ারের মতো সাফল্যের সঙ্গে ব্যাটিং আর কেউ করতে পারবে কি না সন্দেহ আছে।’
