দিনে দিনে আরও ‘ভয়ানক’ হয়ে উঠছে করোনাভাইরাস। সংক্রমণ ও মৃত্যুতে প্রায় প্রতিদিনই গড়ছে নতুন নতুন রেকর্ড। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার করোনায় এক দিনে রেকর্ড প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মহামারী শুরুর পর এক দিনে একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সংক্রমণ ও মৃত্যু ঊর্ধ্বমুখীর দিকে। সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপের কোনো কোনো দেশে নতুন করে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। তারপরও থেমে নেই করোনার বিস্তার। ইতিমধ্যে বিশ্বে করোনার সংক্রমণ ৫ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৩ লাখ ৪৬ হাজারেরও বেশি।
ওয়ার্ল্ডমিটার বলছে, বাংলাদেশ সময় গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত করোনায় বিশ্বে এক দিনে রেকর্ড ১০ হাজার ৪৯৩ জনের মৃত্যু হয়। এর আগেও একবার (১১ নভেম্বর) করোনায় মৃত্যু সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছিল। ওইদিন ১০ হাজার ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিশ্বে মোট ৫ কোটি ৬০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এদিন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয় ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৫ জনের। গত এক দিনে বিশ্বে নতুন করে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়; মৃত্যু হয় ৩ হাজার ৫৭৮ জনের। গত মঙ্গলবার রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যুর দিনে ২৪ ঘণ্টায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ৪১২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
আমেরিকার দুই মহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ এখনো দ্রুত বাড়ছে। শুরুর দিকে তা-ব চালানো ইউরোপে করোনা কিছুটা স্তিমিত হলেও সেখানে আবারও নতুন করে রোগটির প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ডমিটারের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর দেশ যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭১১। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৫ জনের। আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ লাখ ১২ হাজার ৯০৭। এর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ লাখ ১১ হাজার ৭৫৮। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
