প্রযোজক সমিতি ও জায়েদ খানের দ্বন্দ্ব

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩৯ পিএম

শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের সঙ্গে চলচ্চিত্রের অন্য সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। পাল্টাপাল্টি নানা কর্মসূচি নিতেও দেখা গেছে তাদের। জায়েদ খানের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রযোজক সমিতি স্থগিত করে জায়েদ খানের সদস্যপদ। সেই সঙ্গে চলচ্চিত্রে মিশা-জায়েদকে অবাঞ্ছিত করার ঘোষণাও দেওয়া হয়। অপরদিকে জায়েদ খানও প্রযোজক সমিতির অনিয়ম নিয়ে পাল্টা অভিযোগ করে বসেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বরাবর। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের নির্বাচনটি নিয়ম মেনে হয়নি জানিয়ে অভিযোগ করেন অভিনেতা জায়েদ খান। জায়েদ লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলমসহ চারজন প্রযোজক নেতা হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিধিবহির্ভূতভাবে তথ্য গোপন করে নির্বাচন করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের কমিটি বাতিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ১৬ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একই আদেশে বাণিজ্য অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ১০ ধারা অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খন্দকার নুরুল হককে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এই দায়িত্ব গ্রহণের ১২০ দিন সময়ের মধ্যে প্রশাসককে নির্বাচন সম্পন্ন করার আদেশও দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে জায়েদ খানের সদস্যপদও বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জায়েদ খান বলেন, ‘প্রযোজক সমিতির নিয়ম অনুযায়ী টানা তিনবার নির্বাচনের পর এক বছর এবং টানা ছয় বছর নির্বাচন করলে পরের দুই বছর এতে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু খোরশেদ আলম খসরুসহ চারজন এই বিরতি দেননি। বিষয়টি আমি লিখিতভাবে জানাই। এবং প্রযোজক হিসেবে আমার পদের স্থগিতাদেশের বিষয়টিও উল্লেখ করি। তাই মন্ত্রণালয় এটি নিয়ে তদন্ত করে তাদের নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আমার সদস্যপদটিও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো বাড়াবাড়ি করিনি, আইনে যা আছে সেভাবেই হয়েছে। আমি শুধু আমার জায়গা থেকে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেছি।’

এদিকে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আদেশে বাতিলকৃত প্রযোজক সমিতির নেতারা। কার্যনির্বাহী পরিষদের কমিটি বাতিল করার কারণ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯-২১ মেয়াদে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির যে নির্বাচন হয়েছে, সেই নির্বাচনে খোরশেদ আলম খসরু, শরিফ উদ্দিন খান দিপু, সামসুল আলম এবং মনতাজুর রহমান আকবর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের রিট মামলার আদেশ রয়েছে।

খোরশেদ আলম খসরু বলেন, রিট মামলার আদেশটি হয়েছে ২০১৬-১৮ মেয়াদের নির্বাচনের জন্য। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৮ মেয়াদের নির্বাচনে আমরা নির্বাচন করতে পারব না। কারণ, এর আগে আমরা তিনবার নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু বর্তমান যে কার্যনির্বাহী কমিটি, সেটা তো ২০১৯-২১ মেয়াদে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকা-টি স্ববিরোধী। কারণ, আমরা নির্বাচন করেছি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানেই। তাদের প্রতিনিধিরাই নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। এখন তাদের করা নির্বাচন নিয়েই তাদের এমন আদেশ আমাদেরকে বিস্মিত করেছে।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের আদেশ মেনে নিলেও আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। খসরু বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদেরকে আত্মপক্ষের সুযোগ দেয়নি। তাদের এই আদেশের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ আছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই আপিল করব। আমরা আশাবাদী, ২০১৯-২১ মেয়াদি কমিটিকেই পুনর্বহাল করা হবে।’

জায়েদ খান ও প্রযোজক সমিতির ভেতরের এই দ্বন্দ্বের শেষ কোথায়? বিষয়টি নিয়ে পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘সিনেমার অবস্থা এমনিতেই ভালো না। তার ভেতর যে পাল্টাপাল্টি ঝামেলা চলছে সেটা ঠিক হচ্ছে না। আমি এটাকে মোটেই সাপোর্ট করি না। আর এই রেষারেষির সমাধান নিয়েও কিছু বলতে চাই না। তবে তারা দুই পক্ষ যদি কখনো আমার কাছে আসে মীমাংসার জন্য, সে ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করতে রাজি আছি। না এলে কিছু করতে পারব না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত