মাদারীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বানরের খাবার ঘর হিসেবে নির্মিত ঘর ও জমিতে বসবাস করছে সাতটি পরিবার। নিজেদের ঘর না থাকায় বন বিভাগের নির্মাণ করা ওইসব ঘরে পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
জানা যায়, মাদারীপুরের কুমার নদের পাড়ে পৌর কলোনির পাশে ফরিদপুর বন বিভাগ ১৯৯৯ সালে বিশেষ প্রজেক্টের আওতায় ঠিকাদারের মাধ্যমে বানরকে খাবার দেওয়ার জন্য একটি ও পানি পানের জন্য পাঁচটি ঘর তৈরি করে দেয়। প্রথমদিকে প্রচুর বানর ঘরগুলোতে খাবার ও পানি খেতে আসতো। কিন্ত এরপর সরকারি বরাদ্দ কমতে থাকলে আস্তে আস্তে বানরগুলো বিভিন্ন এলাকায় খাবারের সন্ধানে চলে যায়।
বনবিভাগ আরও জানায়, বানর সংরক্ষণ করে এলাকাটিকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি ইকোপার্কও তৈরি করা হয় ওইসময়। কিন্ত প্রকল্পগুলোর কার্যক্রমে কোনো গতি না থাকায় বানরগুলো চলে গেলে সেখানে বসবাস শুরু করে মানুষের সাতটি পরিবার। তারা বানরের ঘর ও তার পাশের জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। তবে বানরের ঘরগুলোর ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেনি মাদারীপুর বন বিভাগ। বছরখানেক ধরে বানরের জন্য নির্মিত ঘরে বসবাসকারী নাদিরা জানান, নিজের জমি বা ঘর না থাকায় তিনি বানরের ঘরে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। সংসার চালাচ্ছেন স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি চায়ের দোকানদারি করে।
তিনি বলেন, ঘরটি খালি পড়ে ছিল। এখানে এখন কোনো বানর আর দেখা যায় না। তাই পাশে একটি চায়ের দোকান দিয়ে স্বামী মনজুর আলম ও সন্তানকে নিয়ে এখানে উঠে পড়েছি। মাদারীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খলিলুর রহমান বেপারী বলেন, ঘরগুলোর দেখভালের দায়িত্ব ছিল পৌরসভার। কিন্তু বানর এবং নজরদারি না থাকায় হয়তো পরিবারগুলো বসবাস শুরু করে দিয়েছে। পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করে ঘরগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।
মাদারীপুর জেলা বন কর্মকর্তা তাপস কুমার সেন গুপ্ত বলেন, এখানে বানরের জন্য কোনো খাবারের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে জানতাম না। ফরিদপুর বন বিভাগে যোগাযোগ করে ঘরগুলো খালি করা হবে। মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, যাদের ঘর নাই তাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। বানরের ঘরে কেন মানুষ বসবাস করবে! জেলা বন কর্মকর্তার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদারীপুর-২ আসনের সাংসদ শাজাহান খান বলেন, বানরের জন্য যে ইকোপার্কের কাজ শুরু হয়েছিল তার উন্নয়নে সরকার প্রায় ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং ইকোপার্কের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
