যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন জো বাইডেন। নতুন সরকারের প্রস্তুতি হিসেবে মন্ত্রিসভা সদস্যদের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এই আলোচনায় স্থান পেয়েছেন গুগলের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. অরুণ মজুমদার। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের খবরে আভাস দেওয়া হয়েছে এই বাঙালি জ্বালানিমন্ত্রী হতে পারেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি, ব্লুমবার্গসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে এই তথ্য।
এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের বাংলা সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের বাইরে কোনো দেশে এখন কোনো বাঙালি মন্ত্রী নেই। যুক্তরাষ্ট্রে অরুণ যদি মন্ত্রী হতে পারেন, তাহলে তা অবশ্যই এক বঙ্গসন্তানের বড় কৃতিত্ব হিসেবে চিহ্নিত হবে।
তবে শিক্ষা ও ভাষাবিদ পবিত্র সরকার ডয়েচে ভেলেকে বলেছেন, আমাদের একটা স্বভাব আছে যে, টেলিস্কোপ নিয়ে বাঙালির সাফল্য খুঁজি। আমেরিকায় যিনি বাইডেনের মন্ত্রিসভায় যেতে পারেন, তিনি কতটা বাঙালি, আর কতটা মার্কিনি, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। তবু শেষ পর্যন্ত নাম যখন বাঙালির, তখন একটু গর্ববোধ তো হয়ই। তবে পৃথিবীজুড়েই বাঙালিরা অনেক দেশে ভালো ভালো কাজ করছেন। সব খবর আমরা পাই না। পাই না বলেই টেলিস্কোপ নিয়ে বসে থাকি।
অরুণ মজুমদারের প্রকৃত নাম অরুণাভ মজুমদার। আইআইটি বম্বের সাবেক এই ছাত্র ‘অরুণ’ মজুমদার হিসেবেই। আইআইটি বম্বে থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর্স ডিগ্রি পাওয়ার পর অরুণ চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে গবেষণা করেন। বর্তমানে তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেটিরিয়াল সায়েন্সের অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের জে প্রিকোর্ট প্রোভোস্টিয়াল চেয়ার প্রফেসরও তিনি। সঙ্গে প্রিকোর্ট ইনস্টিটিউট অব এনার্জির সহ-অধিকর্তা হিসেবেও কাজ করছেন। ২০০৯ সালে তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রোজেক্ট এজেন্সি-এনার্জির (এআরপিএ-ই) প্রতিষ্ঠাতা অধিকর্তা মনোনীত করেন। স্ট্যানফোর্ডের আগে তিনি অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষকতা করেছেন। আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তিনি যুক্ত।
তাকে নিয়ে সৃষ্ট গুঞ্জন সম্পর্কে ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাইডেনের ট্রানজিশন টিমের জ্বালানিবিষয়ক প্রধান হিসেবে আমেরিকা প্রবাসী ভারতীয়-বাঙালি অরুণ মজুমদারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে; সম্ভাব্য জ্বালানিমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সরকারি সম্পর্ক ও যোগাযোগবিষয়ক প্রতিষ্ঠান বাউন্ডারি স্টোন পার্টনার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও অংশীদার জেফ নাভিন বলেছেন, জো বাইডেন যদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের খোঁজে থাকেন, তবে তিনিই (মজুমদার) এগিয়ে থাকবেন।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে অরুণ মজুমদার কিছু বলতে রাজি হননি। এর বদলে তিনি বাইডেনের ট্রানজিশন টিমের কাছে রাখা বিভিন্ন প্রশ্ন ও টিমের উত্তরের দিকে দৃষ্টি দিতে বলেন।
তবে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বাইডেনের ট্রানজিশন টিম বলেছে, এই সময়ে কোনো ব্যক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি তারা।
তবে স্বার্থের সংঘাত দূর করতে মজুমদারকে জ্বালানির সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের বোর্ড ও সংস্থা থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে বলে এ বিষয়ে জ্ঞাত একজন জানিয়েছেন। মজুমদার ইলেকট্রিক পাওয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং তা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে বলে ইনস্টিটিউটটি জানিয়েছে। ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট আরশাদ মনসুর বলেছেন, দেশের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্যই তিনি সরে গেছেন বলে আমরা বুঝতে পেরেছি।
অরুণ মজুমদারের পাশাপাশি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছে তাদের অন্যতম এলিজাবেথ শেরউড র্যান্ডাল। সাবেক সহকারী জ্বালানিমন্ত্রী র্যান্ডালের পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ে বিশদ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং একে মূল্যবান বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে কেবল অরুণ মজুমদারই নন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আরও একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাইডেনের মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তার নাম বিবেক মূর্তি। সার্জেন জেনারেল বিবেক বর্তমানে বাইডেনের করোনাভাইরাসবিষয়ক উপদেষ্টা দলের অন্যতম সদস্য। বাইডেনের মন্ত্রিসভায় তাকে স্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণ মন্ত্রীর পদে বসানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
