সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্ত্রীকে তালাক!

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০১:৪৯ এএম

সন্তান শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দুলালী খাতুন নামে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আলামিন হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, গত পাঁচ মাস আগে কাজি অফিসের মাধ্যমে তালাক দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিজের কাছে লুকিয়ে রাখেন আলামিন। পরে গত শনিবার ডাকযোগে আলামিন হোসেনের পাঠানো তালাক নোটিসটি হাতে পেয়ে যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে দুলালীর। এমনই ঘটনা ঘটেছে পাবনার চাটমোহরের ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে। আলামিনের এমন আচরণে স্তম্ভিত এলাকার মানুষ তার বিচার দাবি করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, কাটাখালী গ্রামের প্রয়াত আবুল হোসেনের মেয়ে দুলালী। ছোটবেলায় বাবা হারানো দুলালীর মা খইচন বেওয়া মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে অনেক কষ্টে একমাত্র মেয়েকে বড় করেন। বছর পাঁচেক আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে একই এলাকার কান্দিপাড়া গ্রামের রব্বান হোসেনের ছেলে দিনমজুর আলামিন হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় দুলালীর। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয় নগদ ১০ হাজার টাকা এবং একটি সাইকেলসহ নানা উপহারসামগ্রী।

দুলালীর মা খইচন বেওয়া বলেন, বিয়ের দুই বছর পর দুলালীর কোল আলো করে জন্ম নেয় ছেলে ‘দুর্জয়’। কিন্তু সন্তান শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দুলালীর জীবনে যেন অভিশাপ নেমে আসে। সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় এর জন্য দুলালীকে দায়ী করেন আলামিন, তার বাবা রব্বানী হোসেন ও শাশুড়ি ফরিদা খাতুন। তারা দুলালীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। মায়ের বাড়ি ফিরে ন্যায়বিচার চেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ গ্রামপ্রধানদের কাছে দুলালী বারবার ধর্ণনা দিলেও মেলেনি কোনো প্রতিকার।

এদিকে দেনমোহরের টাকা বুঝিয়ে না দিয়েই গত ৫ জুলাই চাটমোহর পৌর শহরের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার আবদুর রাজ্জাকের কাজি অফিসে গিয়ে দুলালীকে দেওয়া তালাক নামায় আলামিন স্বাক্ষর করে কাগজ নিজের কাছে লুকিয়ে রাখেন। সম্প্রতি সেই তালাক নোটিস ডাকযোগে দুলালীর কাছে পাঠান আলামিন। শনিবার তা হাতে পান দুলালী।

গতকাল সোমবার কাটাখালী গ্রামে গিয়ে কথা হয় দুলালী খাতুনের সঙ্গে। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়া কী আমার অপরাধ? প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দিয়েছি বলে স্বামী-শ্বশুর, শাশুড়ি মারধর করে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। এখন স্বামী তালাক দিল! আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলামিন হোসেন মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য তালাক দিইনি। কার্যকলাপের কারণে তালাক দিয়েছি। ছেলে আমার যেহেতু, সেহেতু দায়িত্বও আমার।’

আর তালাকের নোটিস লুকিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে কোনো জবাব না দিয়েই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

প্রতিকার চেয়ে দুলালী বারবার ধরনা দিলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান নবীর উদ্দিন মোল্লার মোবাইলে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

অন্যদিকে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলামকে বিষয়টি জানালে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ তালাক দিতে পারে। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে বিষয়টি অমানবিক। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত