দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় খালাস পেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। গতকাল সোমবার ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়, ‘সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করার নোটিস যথানিয়মে জারি না হওয়ায় এবং রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইশরাককে খালাস দেওয়া হলো।’ রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী ইশরাক। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান তপন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানতাম, এমন রায়ই আসবে।’
দুর্নীতির মামলায় খালাসের পর সাংবাদিকদের দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক বলেন, ‘বিচার বিভাগ নিয়ে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা আশাবাদী। এর মাধ্যমে দেশে যে অপশাসন চলছে আগামীতে সেখান থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারব।’
ডিএসসিসি নির্বাচনে বিএনপির এ মেয়র পদপ্রার্থী বলেন, ‘আমরা গত ১৩ বছর ধরে বলে আসছি বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে ফেলা হয়েছে, বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করে ফেলা হয়েছে, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং বিচার বিভাগকে একটি রাজনৈতিক বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই জায়গায় আমি বলবÑ আজকে জনগণের বিজয় হয়েছে, দেশবাসীর বিজয় হয়েছে। আমরা একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেই জায়গায় বিচার বিভাগকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজনীতিকরণের মাধ্যমে, সেখানে আমরা আশাবাদী। এ রায়ের মাধ্যমে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে ন্যায়বিচারের সেই জায়গায় আবার নিয়ে যেতে পারব।’
ইশরাক বলেন, ‘আজকে যিনি বিচারক ছিলেন তিনি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ পথেই হেঁটেছেন বলে আমি মনে করি। তিনি সৎ সাহস নিয়ে এ রায়টি দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা আশাবাদী দেশে যে অপশাসন চলছে আগামীতে সেখান থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারব।’
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইশরাক হোসেন ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী দুদকে দাখিলের নোটিস দেওয়া হয়। একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের কনস্টেবল তালেব কমিশনের নোটিসটি জারি করতে তাদের বাসভবনে যান। কিন্তু ইশরাক হোসেন সেখানে উপস্থিত না থাকায় উপস্থিত চারজনের (সাক্ষী) সামনে বাসভবনের নিচতলায় প্রবেশপথের বাঁ পাশের দেয়ালে স্কচটেপ দিয়ে ঝুলিয়ে নোটিসটি জারি করেন। দুদকের দেওয়া সাত কার্যদিবসের মধ্যে ইশরাক হোসেন সম্পদের হিসাব নির্ধারিত ফরমে দাখিল করেননি। এ ঘটনায় ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম। পরে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন। এরপর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ইশরাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় ৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং দুইপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানির পর গতকাল এই রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
