বলিউডে নতুন বছর শুরু হয় অনেক প্রত্যাশা নিয়ে, বিশেষ করে অ্যাওয়ার্ড সিজনের দিকে সবার মনোযোগ থাকে। কিন্তু ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে ২০২১ সালে!
সারা বিশ্বের মতো করোনা বড়সড় আঘাত হেনেছে ভারতে। যা নিয়ন্ত্রণের কোনো লক্ষণই নেই আপাতত। এ কারণে অ্যাওয়ার্ড সিজনের লাখ লাখ দর্শক হারাতে পারে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলিউড হাঙ্গামা জানায়, ২০২১ সালে ফিল্মফেয়ার, স্ক্রিন ও জি সিনে অ্যাওয়ার্ডের মতো প্রধান প্রধান পুরস্কারের অনুষ্ঠানগুলো হচ্ছে না।
এ ধরনের আয়োজনে বড় ধরনের জনসমাগম হয়। বিশেষ করে বলিউডের সব বড় তারকারা উপস্থিত হন। অথচ সোশ্যাল ডিসটেন্সিং হলো করোনা রোধের অন্যতম উপায়।
আরও গুরুতর কারণ হলো, করোনা প্রাদুর্ভাব ও লকডাউনের কারণে গত ১৩ মার্চের পর বলিউডে বড় কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘সুরজ পে মঙ্গল বারি’ ছাড়া ডিসেম্বরে ছোট বাজেটের কিছু ছবি আসতে পারে। তাই আয়োজকেরা পিছু হটতে পারেন। সে হিসেবে তানাজি- দ্য আনসাং ওয়ারিয়র, ছাপাক, স্ট্রিট ড্যান্সার, পাঙ্গা, মালং, থাপড়, অ্যাংরেজি মিডিয়ামের মতো আলোচিত সিনেমা কোনো পুরস্কার পাচ্ছে না।
তবে আরেকটি সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। অ্যাওয়ার্ড শোগুলো আয়োজক ও টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য বড় ধরনের অর্থের উৎস। চ্যানেলের রেটিংও নির্ভর করে এর ওপর। সে বিবেচনায় দর্শক ছাড়াই হতে পারে অনুষ্ঠান। পরে টেলিভিশনে প্রচার হবে। এ ক্ষেত্রে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ছবিও থাকতে পারে পুরস্কারের তালিকায়।
এমনও শোনা যাচ্ছে, ২০২০ ও ২০২১ সাল মিলিয়ে পুরস্কার দেওয়া হতে পারে ২০২২ সালে।
মজার বিষয় হলো, ১৯৮০ এর দশকের শেষ দিকে এ ধরনের ঘটনা ঘটে ফিল্মফেয়ারের ক্ষেত্রে। মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে জটিলতার সূত্র ধরে ১৯৮৬ সালের অনুষ্ঠান হয় পরের বছর। এ ছাড়া টাইমস গ্রুপের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে পরের দুই বছর পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
অনুষ্ঠান স্থগিতের কারণে ১৯৮৬ সালের কর্মা, নাগিনা, আখেরি রাস্তা, নাম, চামেলি কি সাদি, অঙ্কুশ, এক রুকা হুয়া ফয়সলা, নিউ দিল্লি টাইমস এবং পরের বছরের মিস্টার ইন্ডিয়া, হুকুমত, এজাজত, জালওয়া, মির্চ মাসালার মতো অনেক স্মরণীয় ছবি জিতেনি বিখ্যাত সিঙ্গেল ব্ল্যাক লেডি ট্রফি।
