এই দিনে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০:২৪ পিএম

কবি ও সাংবাদিক আবুল হাসানের জন্ম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বর্ণি গ্রামের মাতুলালয়ে ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট। তার প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া এবং সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। তার পৈতৃক নিবাস পিরোজপুরের নাজিরপুরের ঝনঝনিয়া গ্রামে। তার বাবা আলতাফ হোসেন মিয়া ছিলেন পুলিশ অফিসার। ১৯৬৩ সালে তিনি ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে বরিশালের বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন; কিন্তু পরীক্ষা শেষ না করেই ১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা বিভাগে যোগ দেন। পরে ১৯৭২-৭৩ সালে তিনি গণবাংলা এবং দৈনিক জনপদ-এ ১৯৭৩-৭৪ সালে সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। অল্প বয়সেই তিনি কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। মাত্র এক দশকের কাব্যসাধনায় তিনি আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করেন। আত্মত্যাগ, দুঃখবোধ, মৃত্যুচেতনা, বিচ্ছিন্নতাবোধ, নিঃসঙ্গ চেতনা, স্মৃতিমুগ্ধতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তার কবিতায় সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৭০ সালে এশীয় কবিতা প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম হন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘রাজা যায় রাজা আসে’ (১৯৭২), ‘যে তুমি হরণ করো’ (১৯৭৪) ও ‘পৃথক পালঙ্ক’ (১৯৭৫)। মৃত্যুর পর কাব্যনাট্য ‘ওরা কয়েকজন’ (১৯৮৮) ও ‘আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ’ (১৯৯০) প্রকাশিত হয়। ১৯৭৫ সালে তিনি কবিতার জন্য মরণোত্তর বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮২ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত