ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় গত দেড় মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংস ও সাম্প্রদায়িক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ১৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সিঙ্গাপুর। এছাড়া জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাছাড়া একই অভিযোগে এক মালয়েশিয়ান নাগরিককেও দেশে পাঠানো হয়েছে। তবে ফেরত পাঠানো ওই ১৫ জনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, ঢাকায় এ খবর নিশ্চিত করতে না পারলেও সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস। বাংলাদেশের ওই ১৫ নাগরিকের ব্যাপারে সিঙ্গাপুর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত সেপ্টেম্বর থেকেই এ বিষয়ে নজর রাখছিল দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। এরপর তদন্তের ভিত্তিতেই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত পাঠানো ওই বাংলাদেশিদের মধ্যে অধিকাংশই নির্মাণশ্রমিক। সম্প্রতি ফ্রান্সে হামলার ঘটনার পর থেকেই নিজেদের ফেইসবুকে তাদের পোস্টগুলো সহিংসতা উসকে দিয়েছে বা সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যদিও সেসব ফেইসবুক পোস্টের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি দেশটির কোনো দায়িত্বশীল সংস্থাই।
সিঙ্গাপুর থেকে কয়েকজন শ্রমিক মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে জানান, বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো সিঙ্গাপুরে থাকা কজন বাংলাদেশিও ফ্রান্সের ঘটনায় নানা ধরনের সমালোচনায় লিপ্ত হন। যা ভালো চোখে দেখেনি দেশটির সরকার। আর এজন্য ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর নজরদারি করছিল তারা। এমন তুচ্ছ একটি অপরাধেই কপাল পুড়েছে তাদের। ১৫ জনকে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে প্রবাসী অন্য বাংলাদেশিরা। তাদের মতে, ফ্রান্সবিরোধী মনোভাব প্রকাশ কতটা অপরাধ তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। খোদ ফ্রান্সসহ গোটা ইউরোপে যেখানে বাক-স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করা হয় সেখানে এ ধরনের ঘটনা বাড়াবাড়ির শামিল।
জানা গেছে, ১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফয়সাল আহমেদ (২৬) নামে এক যুবককে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে সিঙ্গাপুরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ২ নভেম্বর দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে (আইএসএ) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফয়সাল সিঙ্গাপুরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধর্মীয় সমর্থনে নানা সহিংসতা লালন করে আসছিলেন ফয়সাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনিও এ সংক্রান্ত প্রচার চালিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পরপরই ফয়সালকে উদ্ধৃত করে ইরাক ও সিরিয়ার প্রপাগান্ডা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্মীয় মৌলবাদে জড়িয়ে পড়ার কথা প্রকাশ করে নিরাপত্তা সংস্থা। তারা জানায়, আইএসের মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্মের নামে বাংলাদেশে এসে সশস্ত্র সহিংস হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ফয়সাল।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা থেকে সপ্তাহে বিমান ও ইউএস বাংলার দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় সিঙ্গাপুরে। মাঝেমধ্যে দু-একজন আউট পাস নিয়ে দেশে ফেরেন। তারা কী কারণে ফিরেছেন বা কেনই বা তাদের ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
