বানান সচেতনতা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫১ এএম

ছোটকাল থেকেই বানানে সচেতন হওয়া জরুরি। ভাষা শুদ্ধ করে লেখার জন্য দরকার বানানের প্রতি আগ্রহ ও মমতা। অনেক ক্ষেত্রে বানান ভুলের কারণ অজ্ঞতা নয়, অসাবধানতা ও অমনোযোগিতা। তাই বানানে হতে হবে মনোযোগী ও সচেতন। লিখেছেন ইউশা আসরার

উচ্চারণ :  বানানে অশুদ্ধতার একটি প্রধান কারণ উচ্চারণ দোষ। আঞ্চলিক ভাষার উচ্চারণ প্রভাব থেকে অনেকেই মুক্ত হতে পারে না, অন্যদিকে শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণের প্রতি সতর্কও থাকে না। এই উচ্চারণ বিকৃতির প্রভাবে বানানেও অশুদ্ধি ঘটে। এটি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

শব্দ গঠন : শব্দের গঠনরীতি সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে বানান বিভ্রান্তি ঘটে থাকে। শুদ্ধ বানানের জন্য শব্দ বা পদ গঠনের নিয়মাবলি জানা অপরিহার্য। তাই বানানের শুদ্ধাশুদ্ধ বিচারে ব্যাকরণপাঠ অপরিহার্য। শব্দ গঠনের নিয়মগুলো জানা থাকলে বানানের ভুল কমে আসবে।

শব্দের অর্থ : শব্দের যথাযথ অর্থ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকার কারণেও সঠিক শব্দ প্রয়োগে বিভ্রান্তি ঘটে থাকে। নিমন্ত্রণপত্রে প্রায়ই লেখা হয়‘আপনি স্বপরিবার আমন্ত্রিত’। এখানে ‘স্বপরিবার’ শব্দটি একটি ভুল প্রয়োগ। সঠিক প্রয়োগ হবে‘আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত’।

শব্দ বাহুল্য : স্বাস্থ্য, স্বাগত, স্বাগতম এসব শব্দের মধ্যে ‘সু’ বা ভালো অর্থ নিহিত আছে। কাজেই এগুলোর আগে আরেকবার ‘সু’ লাগিয়ে সুস্বাস্থ্য, সুস্বাগত বা সুস্বাগতম করা বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি। ‘অশ্রুজল’ একটি অশুদ্ধ শব্দ, কেননা অশ্রু শব্দের অর্থ চোখের জল, অশ্রুর সঙ্গে জল যোগ করলে তা হবে বাহুল্য। বহুবচনের দ্বিত্ব ব্যবহার আরেকটি বহুল ব্যবহৃত বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি।

স্ত্রীবাচক শব্দ : দাপ্তরিক বা পেশাগত পদের ক্ষেত্রে অহেতুক স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করা ঠিক নয়। পদ যেখানে প্রধান শিক্ষক, প্রভাষক, অধ্যাপক, সদস্য, লেখক সেখানে অনর্থক সমস্যা তৈরি করে ‘প্রধান শিক্ষিকা’, ‘প্রভাষিকা’, ‘অধ্যাপিকা’, ‘সদস্যা’, ‘লেখিকা’ ইত্যাদি লেখা পরিহার করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত